শীতেও থাকুন সুরভিত

ঘামের দুর্গন্ধ হতেই পারে। সেটা বাড়িতে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন। তাই তরতাজা ও দুর্গন্ধহীন থাকতে মেনে চলতে পারেন কিছু ঘরোয়া নিয়মকানুন। জানালেন বিউটি ব্লগার নাহিন ইসলাম

ঘামের সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে কারও ঘাম বেশি, কারও আবার কম। ঘাম এমনিতেই গন্ধহীন। শরীরের ফেরোমন এবং বাইরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে নির্দিষ্ট গন্ধ হয়। ফেরোমন বদলানো বা পাল্টানো যায় না। প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব গন্ধ আছে। তবে ব্যাকটেরিয়া দূর করা বা দিনভর সুগন্ধিত থাকা অবশ্যই সম্ভব।

কী করবেন

দিনের শুরুতে গোসল করে নিন। যাদের ঘাম বেশি তারা চাইলে গোসলের পানিতে এসেনশিয়াল অয়েল, বাথসল্ট মিশিয়ে নিতে পারেন। যে অংশে অতিরিক্ত ঘাম হয়, সেই অংশ নিয়মিত শাওয়ার জেল দিয়ে পরিষ্কার করুন। পাতিলেবুর টুকরা দিয়ে অংশগুলো ঘষতে পারেন। গোসলের পর ওই অংশগুলোয় রোল-অন লাগান। শুকিয়ে গেলে ট্যালকম পাউডার দিন। এ ছাড়া যখন অতিরিক্ত ঘাম হবে, তখন ওই অংশ অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশন দিয়ে পরিষ্কার করে তারপর ডিও ও শেষে অল্প ট্যালকম পাউডার দিন। চেষ্টা করুন সব সময় ধোয়া ও পরিষ্কার জামাকাপড় পরুন। একই পোশাক পরপর পরবেন না। সুতির, হালকা, ঢিলে পোশাক পরলে ঘাম কম হবে। পোশাক পরে ওপরে অল্প পারফিউম লাগান। এ ছাড়া অনেকের পাও ঘামে। বন্ধ জুতা পরলে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। গোসলের সময় পায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। গোসলের পর পা শুকনো করে মুছে ট্যালকম পাউডার লাগান। যদি ঢাকা জুতা পরার অভ্যাস থাকে, তাহলে জুতার ভেতরেও সুগন্ধি ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিতে পারেন। নিয়মিত মোজা বদলান। ঢাকা জুতা পরা বাধ্যতামূলক না হলে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল পরুন। এতে পায়ে ঘাম হলেও বাতাসে শুকিয়ে যাবে। ব্যাকটেরিয়া বা দুর্গন্ধ, কোনোটাই মাত্রা ছাড়াবে না। পা থেকে দুর্গন্ধ সহজে যেতে না চাইলে পানিতে ফুটসল্ট ও ফিটকিরি দিয়ে তার মধ্যে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ২ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মেশান ২ টেবিল চামচ পানি বা গোলাপজলে। তুলা এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালোভাবে পা মুছে নিন। এতেও দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই চলে যাবে।

টিপস

 সবসময় নিজেকে শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। গোসলের পর শরীর শুকিয়ে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন।

 শসাতে পানি থাকে, যা শরীরের গন্ধ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন শসা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 সালফিউরিক-সমৃদ্ধ খাবার যেমন ব্রোকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি পরিমাণে কম খেতে হবে। কারণ এগুলোতে মিনারেল সালফার থাকে, যা গন্ধযুক্ত গ্যাস আমাদের ত্বকের সাহায্যে নির্গত হয়ে ঘামের দুর্গন্ধ তৈরি করে।