আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় ভালো করতে হলে এখন থেকেই নিতে হবে জোরালো প্রস্তুতি। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ^পরিচয় পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন
নিয়মিত পড়াশোনা করো
ভালো ফল করতে চাইলে নিয়মিত পড়াশোনা করার বিকল্প নেই। মেধাবী, পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করে। বৃত্তি পরীক্ষা হচ্ছে মেধাবীদের প্রতিযোগিতা। এখানে ভালো করতে হলে সারা বছরের পড়াশোনা ভালো করে রিভিশন দিতে হবে। যে সময়টুকু আছে পড়াশোনার মাধ্যমে তা ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।
অনুশীলন ও চর্চা
যেকোনো বিষয়ে চর্চা ও অনুশীলন বিষয়টিকে আয়ত্ত্বে আনতে সহযোগিতা করে। ইংরেজি গ্রামার অংশ ও গণিত বারবার অনুশীলন করতে হবে। অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করা যায়। এর ফলে সহজেই উপলব্ধি করতে পারবে প্রস্তুতির ঘাটতি কোথায়। অল্প সময়ে নিজের ভুলগুলো সংশোধন করে প্রস্তুতি নিলে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবে।
মূল পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্ব দাও
ভালো প্রস্তুতির জন্য মূল বই পাঠ হলো শ্রেষ্ঠ উপায়। নিজেকে সেরাদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে মূল পাঠ্যপুস্তকের কোনো বিকল্প নেই। তাই বিষয় ধরে ধরে মূল বইয়ের ওপর বেশি জোর দাও। বাজারে প্রচলিত গাইড বইয়ের পেছনে ছুটো না।
রুটিন মেনে চলো
রুটিন ছাড়া লেখাপড়া যেন মাঝি ছাড়া নৌকার মতো। নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হলে তার জন্য সুন্দর পরিকল্পনা প্রয়োজন। সারা দিনের সময়টা কীভাবে ব্যবহার করবে, কোন বিষয়ে কখন কতটুকু পড়বে তার একটি তালিকা তৈরি করো। ঘুম, খাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ বাদে পুরোটা সময় পড়াশোনার কাজে লাগানোর চেষ্টা করো।
শারীরিক সুস্থতা, ঘুম ও খাবার
একটানা পড়াশোনা করে অসুস্থ হওয়া বা ক্লান্ত হওয়ার মধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণের সার্থকতা নেই। তাই পড়ার মাঝে মাঝে পাঁচ-দশ মিনিট বিরতি নেবে। বসে পড়তে ক্লান্ত লাগলে বই নিয়ে হেঁটে হেঁটে পড়বে।
তবে সবার আগে সুস্থতা। মানুষ যখন সুস্থ সবল থাকে তখন তার মস্তিষ্ক সর্বোচ্চ সচল থাকে। যথাসময়ে খাবার গ্রহণ করবে। বিলম্ব করবে না। রাত জাগবে না। ভোরে ঘুম থেকে উঠবে এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবে।
বারবার রিভিশন
এখন যেহেতু সময় কম তাই যা পড়া হয়েছে টপিক ধরে ধরে বারবার রিভিশন দাও। যে টপিক বা অধ্যায়গুলো সমস্যা মনে হয় সেগুলোর ওপর অধিক জোর দাও। আমরা সবাই পড়াশোনা করি। কিন্তু তারাই এগিয়ে থাকে যারা বারবার রিভিশন দেয়। কারণ বারবার পড়ার ফলে মস্তিষ্ক সেই বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রাখে।
স্পষ্ট হাতের লেখা
পরীক্ষার খাতায় সুন্দর হাতের লেখা ও মার্জিত উপস্থাপনা বেশি নম্বর পেতে সহযোগিতা করে। মনে রাখবে কাটা-ছেঁড়া খাতার সৌন্দর্য নষ্ট করে। কোনো কিছু কাটতে হলে এক টানে কাটবে। অতিরিক্ত ঘষামাজা করবে না। নির্ভুল বানানে স্বচ্ছ হাতের লেখায় পরিবেশিত উত্তর পরীক্ষক ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।
গণিত ও ইংরেজিতে জোর
যেসব বিষয়ে ভালো নম্বর তোলা যায় সেসব বিষয়ের ওপর বেশি করে জোর দাও। এ ছাড়া প্রতিটি বিষয়ের শতভাগ উত্তর করার চেষ্টা করবে। পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্টের দিকে খেয়াল রাখবে।
আত্মবিশ্বাস
নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখো। মনে সাহস রাখো, তুমিই পারবে। শঙ্কা বা ভয় ভালো প্রস্তুতিকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই মনে সাহস রাখো। ঠান্ডা মাথায় মনে অদম্য বল নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পরে পুরো প্রশ্নটি একবার মনোযোগ দিয়ে পড়বে। তারপর যে প্রশ্নটির উত্তর সবচেয়ে ভালো পারবে সে প্রশ্নটির উত্তর প্রথমে লিখবে। এভাবে জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া শেষ করবে। মাথা ঠান্ডা রেখে গুছিয়ে লিখতে পারলে তুমিই মেধার এ প্রতিযোগিতায়।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
কাঠগড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার