ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় সড়কের মাঝের বিভাজকের ওপর থাকা বকুলগাছসহ অন্তত ৫০টির বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে আজমিরি হোসেন (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাওড়াতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগেই এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ শনিবার সকালে থানায় মামলা করে। সওজ জানায়, মহাসড়কের বেলতলী এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে বিভাজকের ওপর থাকা অন্তত ৫২টি বকুলগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বেলিফুল, তালসহ আরও বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে। কিছু গাছ গোড়া থেকে, কিছু আবার মাঝখান থেকে কাটা। বেশ কয়েকটি গাছ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেলতলীর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক জানান, মহাসড়কের পাশেই একটি টিনের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন আজমিরি হোসেন। সবজি চাষের জায়গা তৈরির উদ্দেশ্যেই তিনি নাকি এসব গাছ কেটেছেন।
গত শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন সওজের কার্যসহকারী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে এসে দেখি ১৭টি গাছ কাটা। পরে খোঁজ নিয়ে জানি, আশপাশে আরও গাছ কাটা হয়েছে। তাই আমরা মামলা করেছি।
সওজ জানায়, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর ২০১৬ সালে সৌন্দর্যবর্ধন এবং সড়ক নিরাপত্তার উন্নতির জন্য বিভাজকে ফুলগাছসহ নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটারে বকুল, কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, রাধাচূড়া, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদমসহ ৫০ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হয়। পাশাপাশি সড়কের পাশে জলপাই, আকাশমণি, নিম, মেহগনি, অর্জুনসহ আরও ৪০ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, বেলতলী এলাকায় গাছ কাটার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। মামলা হয়েছে, পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘সওজের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি আজমিরি হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। আজ রবিবার (গতকাল) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’