বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। নিখোঁজ অবস্থায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কৌশলে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
মফিজুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার দেশ রূপান্তরকে জানান, টঙ্গীতে পিডিবির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একদিনের একটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিতে শনিবার বিকেলে ঢাকার ডেমরায় শ^শুরবাড়িতে যান মফিজুর। পরদিন রবিবার সেখান থেকে টঙ্গীতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে বের হন।
এ সময়ের মধ্যে মোবাইল ফোনে তিন-চারবার স্বাভাবিক কথা হয়েছে উল্লেখ করে শারমিন জানান, ‘বিবিয়ানা থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে মফিজুরের বদলি হওয়ায় পরদিন সোমবার (গতকাল) তার সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। রবিবার সর্বশেষ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আমার সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি জানান, আমি বিদ্যুৎ ভবনে পিডিবি অফিসের দিকে যাচ্ছি। ডেমরায় ফিরতে দেরি হবে।’
‘রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আমার মোবাইলে একটা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে একটি “ওটিপি” আসে। তখন আমার স্বামী আমাকে সেটি জানাতে বললে আমি তাকে জানাই। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ওটিপি আসে। এরপর তাকে ফোন দিলে তিনি আর ফোন ধরেননি। রাত ১১টার দিকে ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ দেখায়,’ যোগ করেন শারমিন।
তার ভাষায়, ‘রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে তার মোবাইলে ফোন দিলে সেটি বন্ধ দেখায়। তখন আমার বাবাকে ফোন দিয়ে জানতে চাই মফিজুর বাসায় পৌঁছেছেন কি না। বাবার কাছ থেকে “না”-সূচক জবাব পেলে মফিজুরের সহকর্মী ও বন্ধুদের জানাই বিষয়টি। এ সময় জানতে পারি, তার দুই সহকর্মীর কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা এবং এক বন্ধুর কাছ থেকে ২ লাখ টাকাসহ ৫ লাখ টাকা নিয়েছে মফিজুর। এই টাকা নেওয়া হয়েছে রবিবার রাত ৮টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে।’
শারমিন জানান, মফিজুরের এক বন্ধু তাকে জানান তার কাছে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা চাইলে সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তখন ওই বন্ধু মফিজুরকে ভিডিও কল দিতে বললে সে ভিডিও কল দেয়। এ সময় তাকে একটি কক্ষের মধ্যে গেঞ্জি ও পায়জামা পরা অবস্থায় দেখা যায়। এরপর তাকে ২ লাখ টাকা পাঠান।
মফিজুরের স্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার জানামতে তার কোনো শত্রু নেই। তা ছাড়া কোথাও লেনদেন করলে সেটাও আমার জানার কথা। কিছুই বুঝছি না। তার জন্য আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। দ্রুত সন্ধান পেতে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় মফিজুরের শ্যালক মো. মাহবুবুর রহমান থানায় ডায়েরি করেছেন। জানতে চাইলে টঙ্গী থানার উপপরিদর্শক মো. বায়েজীদ নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মফিজুর রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীর ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বের হন। রাত ১টার দিকে তার মোবাইল নেটওয়ার্কের অবস্থান ছিল ঢাকার মা-া এলাকায়। ভোর ৪টার দিকে তার অবস্থান দেখায় মতিঝিলে। সকালের দিকে (গতকাল সোমবার) তিনি আবার মা-ায় ফিরে আসেন। এ সময় তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তিনটি বুথে গিয়েছেন। এরপর আর মফিজুরের অবস্থান জানা যাচ্ছে না। তবে আমরা বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’