মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় মা-ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!

কুমিল্লায় মাদক কারবার বন্ধের চেষ্টা করায় মা ও ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকালে আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী বসন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন বসন্তপুর গ্রামের প্রয়াত আজগর আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৬৫) ও তার ছোট ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। ঘটনার পর থেকে বিল্লাল পলাতক। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রীকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিল্লাল হোসেন এলাকায় পরিচিত একজন মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে বিল্লাল মাদক নিয়ে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে ছোট ভাই কামাল তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল ঘরে গিয়ে ছুরি নিয়ে এসে কামালকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এ সময় মা রাহেলা বেগম ছেলের হাত থেকে ছোট ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই কামাল মারা যান। পরে গুরুতর আহত রাহেলা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে বসন্তপুর গ্রামের ৬৩ বছর বয়সী আবদুল মোতালেব বলেন, ‘আমার বয়সে এই গ্রামে এমন ঘটনা আর দেখিনি। এমন ঘটনায় এলাকার মানুষজনও হতবাক।’

পরিবারের লোকজন জানায়, নিহত কামাল হোসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে এসেছেন তিনি। সংসারে তার দুই মেয়ে আছে। বড় মেয়ে আদিবার বয়স আট বছর আর ছোট মেয়ে আয়েশার বয়স চার। মা আমেনা বেগমের হাত ধরে বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তারা।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফ ইবনে আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, বিল্লাল একাই মা ও ভাইকে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এখানে অনেকে মাদকের কথা বলছেন। তবে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। বাকিটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে ভাইদের মধ্যে জমিসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধও ছিল। পলাতক বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।