প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টের দ্বারপ্রান্তে মুশফিকুর রহিম। রাত পোহালেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম সাক্ষী হবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের। এমন সময়ে মুশফিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক দুই কোচ ডেভ হোয়াটমোর এবং চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।
মুশফিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণ করেছিলেন হোয়াটমোরের আমলেই। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ বলেছেন, ‘মুশফিক এমন একজন, যে খুব ভালোভাবেই জানত সে কী চায়। সেই লক্ষ্য পূরণে সে সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেছে। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন আর চোটাঘাতের মাঝেও এত বছর ধরে মুশফিককে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে দেখে আমি ভীষণ খুশি। ২০০৭ সালে আমি দায়িত্ব ছাড়ার পরও মাঝে মাঝে মুশফিকের ক্যারিয়ার অনুসরণ করেছি। সাকিব আল হাসান এবং পরবর্তীতে তামিম ইকবালের সঙ্গে সে তার দেশকে গর্বিত করেছে। ওয়ানডেতেও সে দুর্দান্ত। তার স্লগ সুইপ তো লেজেন্ডারি পর্যায়ের।’
জাতীয় দলের বহুল আলোচিত-সমালোচিত সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘মুশফিকুর রহিম তার শততম টেস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট শুধু একটি মাইলফলকই উদযাপন করছে না, বরং এমন একজন মানুষকে সম্মান জানাচ্ছে যার প্রভাব পরিসংখ্যানের অনেক ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুই ভিন্ন সময়ে ২০১৪ থেকে ২০১৭ এবং আবার ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমি মুশফিককে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছি। তার মাঝে সবসময় দেখেছি অবিচল পেশাদারিত্ব, প্রতিশ্রুতি ও নেতৃত্বগুণ।’
শ্রীলঙ্কান এই কোচ আরও বলেছেন, ‘মুশফিক এমন একজন নিখুঁত ক্রিকেটার, যার সঙ্গে আমি কাজ করেছি। তার প্রস্তুতি বিশ্বমানের—পরিকল্পিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ধারাবাহিক। ম্যাচ মিরপুরে হোক বা বিদেশের কঠিন কোনো কন্ডিশনে, মুশফিক কখনও নিজের মানদণ্ড নিচে নামতে দেয় না। সে (অনুশীলনে) সবসময় আগে আসে, কন্ডিশন বোঝে, এবং প্রতিটি অনুশীলন সেশনের উদ্দেশ্য ঠিক করে নেয়। তরুণরা তাকে দেখে প্রকৃত পেশাদারিত্ব শিখতে পারে।’
মুশফিকের প্রশংসা করে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘তার টেকনিক্যাল দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার বাইরে যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেটা হলো তার চরিত্র। মুশফিক এমন একজন সৎ মানুষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতা, যা আমি পৃথিবীর অন্য কোনো দলে খুব কমই পেয়েছি। সে নিজেই দলীয় সংস্কৃতির মানদণ্ড তৈরি করে এবং কথায় নয়, কাজে নেতৃত্ব দেয়। সে যখন কথা বলে, খেলোয়াড়রা মনোযোগ দিয়ে শোনে। এটা শুধু সিনিয়রিটির কারণে নয়, বরং দলের প্রতি মুশফিকের ভাবনার জন্যই বাকিরা তার কথা শোনে।’
পরিশেষে হাথুরু বলেছেন. ‘১০০ টেস্ট খেলা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য বিরাট অর্জন। যে ছেলেটি বাংলাদেশকে এত গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করেছে, তার জন্য এই অর্জনটি আরও বিশেষ। মুশফিকুর রহিম দেশের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা বয়ে নিয়ে চলেছে শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও গভীর ভালোবাসা দিয়ে। তার এই যাত্রা কেবল প্রতিভার গল্প নয়—এটি নিরলস পরিশ্রম ও খেলাটির প্রতি অগাধ ভালোবাসার গল্প। তার ক্যারিয়ারের এই ঐতিহাসিক পর্যায়ে এসে তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। শুধু তার সাবেক কোচ হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে যাকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি। অভিনন্দন, মুশফিক। এটা তোমার প্রাপ্য।’