ইংল্যান্ড জাতীয় দলে জুড বেলিংহ্যামের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২২ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার দেশের অন্যতম ভরসা হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার সঙ্গে কোচ থমাস টুখেলের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লিথুয়ানিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পরও আলোচনার কেন্দ্রে বেলিংহ্যামের আচরণ।
রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার ১৭ বছর বয়সে অভিষেকের পরই ইংল্যান্ডের অন্যতম মূল খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ২০২২ বিশ্বকাপ ও ইউরো ২০২৪—দুই আসরেই গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৪৬টি ম্যাচ। কিন্তু টুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে গেছে পরিস্থিতি। বেলিংহ্যামের দলে জায়গা পাওয়া, এমনকি স্কোয়াডে থাকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অতীতে এক সাক্ষাৎকারে টুখেল তার মাঠের আচরণকে 'বিরক্তিকর' বলে উল্লেখ করেছিলেন, যদিও পরে ক্ষমা চান। গত ম্যাচে আলবেনিয়ার বিপক্ষে ৮৪ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়ার পর বেলিংহ্যাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে টুখেল পরিষ্কার ভাষায় জানান—'আচরণই আসল বিষয়' এবং এই ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হবে।
ইংল্যান্ডের বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মতে, বেলিংহ্যাম হয়তো নিজের অবস্থান হারানোর চাপই বেশি অনুভব করছেন। কারণ মিডফিল্ডে এখন তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে—মর্গান রজার্স, কোলে পামার, ইবে ইজে ও ফিল ফোডেনের মধ্যে। বড় টুর্নামেন্ট এলে বেলিংহ্যাম হয়ে ওঠেন দলের অমূল্য সম্পদ।
২০২২ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ ইউরোতে বেলিংহ্যাম প্রথম একাদশে খেলেছেন নিয়মিত। কিন্তু টুখেলের অধীনে এখন পর্যন্ত খেলতে পেরেছেন মাত্র ৩৭৪ মিনিট! বিশ্লেষকদের মতে, টুখেলের কড়া শৃঙ্খলা ও ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি বেলিংহ্যামের স্বতঃস্ফূর্ত খেলায় কিছুটা বাধা তৈরি করতে পারে।
মাদ্রিদভিত্তিক বিশ্লেষকরা জানান, বেলিংহ্যাম ক্লাবের ড্রেসিং রুমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমর্থকদের কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। তবে নতুন কোচ জাবি আলোনসোর কঠোর প্রশিক্ষণ চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে তার। যদিও মাঠের পারফরম্যান্সে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো প্রমাণ নেই।
অনেকে মনে করেন—আলোনসো ও টুখেলের ব্যক্তিত্বের মিলই সমস্যার মূলে। দুজনেই ঠান্ডা মেজাজের, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও অত্যন্ত ট্যাকটিক্যাল।টুখেলের কোচিং ক্যারিয়ারে তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। পিএসজিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তর্ক, চেলসিতে কালাম হাডসন–ওদোইকে আচরণগত কারণে ম্যাচের মাঝপথে তুলে নেওয়া, বায়ার্নে সাদিও মানের অসন্তোষ—সবই তার কঠোর কোচিং স্টাইলের প্রমাণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি বড় কোনো সংকট নয়, বরং দলের ভেতর সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তবে বড় টুর্নামেন্টের আগে কোচ–তারকা সম্পর্ক উত্তপ্ত থাকা অবশ্যই ইংল্যান্ডের জন্য ভাবনার বিষয়। ঘটনা যাই হোক, বেলিংহ্যাম এখনও দলের অন্যতম সেরা প্রতিভা—এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন অপেক্ষা—টুখেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপে তুললেন প্রিমিয়ার লিগের চার তারকা
জার্মানির ৬ গোলের দাপুটে জয়