কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চাঞ্চল্যকর প্রবাসী আবু বক্কর প্রকাশ আসিফ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ২ আসামি মো. রাব্বি প্রকাশ বাপ্পি (৩০) ও মো. পারভেজকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর পূর্বপাড়ার হাবিব উল্লাহ এবং পারভেজ একই গ্রামের এনায়েত উল্লাহর ছেলে। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ. সেলিম।
সদর দক্ষিণ থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর আবু বক্কর প্রকাশ আসিফ নিজ শশুর বাড়ি আব্দুল্লাহপুর গ্রামে স্ত্রীসহ সবাই বেড়াতে যান। পরে বিকালে আবু বক্কর তার শ্যালক সহ রাস্তায় ঘুরতে বের হন। এ সময় দুই দুর্বৃত্ত তার উপর অতর্কিত হামলা এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবু বক্করের শুশুর বাড়ির লোকজন তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক পর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) আবু বক্কর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে ঘটনার পর অর্থাৎ আবু বক্করের মৃত্যুর পূর্বেই তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী মোসা. সুমাইয়া আক্তার সুইটি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় এ সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের করেন। অতঃপর উক্ত মামলার এজাহার নামীয় মূল আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। সর্বশেষ গত রবিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে রাব্বি ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার (১৭ নভেম্বর) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আটককৃত উভয় আসামি ভিকটিম আবু বক্করকে কিভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে তার বর্ণনা দিয়ে কুমিল্লার ৬ নং আমলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর আবু বক্কর হত্যা মামলার মূল আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করায় নিহতের পরিবারের লোকজন, এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, তারা অবিলম্বে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসী আবু বক্কর হত্যার ঘটনার মূলহোতা রাব্বি ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে তারা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।