ক্লাউডফ্লেয়ারে বিভ্রাট, অনলাইন সেবা বিঘ্নিত

কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএস) এবং ডোমেন নেম সার্ভার (ডিএনএস) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই বিশ্ব জুড়ে ক্লাউডফ্লেয়ার বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, বিশ্বব্যাপী বিভ্রাটের পর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার। সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি আপডেটে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন করেছি, যা ক্লাউডফ্লেয়ার অ্যাক্সেস এবং ডব্লিউএআরপি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। অ্যাক্সেস এবং ডব্লিউএআরপি ব্যবহারকারীদের জন্য ত্রুটির মাত্রা বিভ্রাটের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। আমরা লন্ডনে ডব্লিউএআরপি অ্যাক্সেস আবার চালু করেছি। আমরা অন্য সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছিল যে তারা একটি সমস্যা সম্পর্কে সচেতন এবং তদন্ত করছে, যা একাধিক গ্রাহককে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে এবং এর ফলে ৫০০ ইরর, ক্লাউডফ্লেয়ার ড্যাশবোর্ড এবং এপিআই অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসেও অফলাইন দেখা দিচ্ছে।

বৈশ্বিক ইন্টারনেট মনিটরিং সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ক্লাউডফ্লেয়ারের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে প্রভাবিত করা একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন সেবা বিঘিœত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, এ ঘটনাটি দেশ-স্তরের ইন্টারনেট বিঘ্ন বা ফিল্টারিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

ক্লাউডফ্লেয়ারের এই বিভ্রাটের কারণে ওপেনএআই, আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস এবং ফেসবুকের সেবাতেও সমস্যার খবর পাওয়া গেছে। আউটএজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর.কম অনুসারে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সও বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার ব্যবহারকারীর ব্যবহার করতে পারছেন না।

এই বিভ্রাটগুলো একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। এক্স এবং ক্লাউডফ্লেয়ার রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

২০২২ সালের জুনেও ক্লাউডফ্লেয়ার একটি ব্যাপক বিভ্রাটের খবর দিয়েছিল এবং সে সময় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছিল না।

ওয়েবসাইটের মেমোরি, গতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে প্রযুক্তি, তার নাম ক্লাউড কম্পিউটিং। বিশ্ব জুড়ে নানা ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসবের মধ্যে ক্লাউডফ্লেয়ার অন্যতম একটি। বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সার্ভার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি একটি অদৃশ্য ঢালের মতো কাজ করে, যা সাইবার হামলা ঠেকিয়ে ওয়েব পেজ লোডিংয়ের সময় কমিয়ে আনে।