জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে লড়াই শেষে প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসুরের বাড়িতে ফিরলেন জাতীয় দলের ফুটবলার শমীত সোম। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে বাড়ির সামনে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। ফুলেল শুভেচ্ছা আর উচ্ছ্বাসে বরণ করে নেন সবাই এই তরুণ তারকাকে।
ঘরে ফেরার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত শমীত সোম বলেন, “জাতীয় দলের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর সেই খেলার পর নিজের মানুষের ভালোবাসা-এটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।”
শমীতের বড় বোন মেনকা সোম তিনি দেশ রূপান্তর-কে জানান, ভাইকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশের হয়ে ভারতকে হারাবে। তবে মনে এক ধরনের ভয়ও ছিল-কারণ বাংলাদেশ অনেক সময় তীরে এসে তরি ডুবায়। কিন্তু এবার সে প্রতিশ্রুতি রাখায় আমরা খুবই আনন্দিত।
এলাকাবাসী বলেন, কানাডা থেকে এসে জাতীয় দলে খেলা শমীত সোম এখন শ্রীমঙ্গলের গর্ব। তার সাফল্যে স্থানীয় তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
শমীতের পিসি শান্তা বিশ্বাস তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শমীত মাঠে নামার আগে আমরা সবাই প্রার্থনা করেছিলাম যেন বাংলাদেশ জয় পায়। ম্যাচ জেতার পর থেকে পুরো বাড়িতেই আনন্দের ছড়াছড়ি। উত্তেজনায় রাতে কেউ ঠিকমতো ঘুমাইনি।
শমীতের কাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন সোম তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা যুদ্ধ করে বিজয় এনেছিলাম। আজ আমার ভাতিজা খেলায় বিজয় এনে দিয়েছে-এটা আমাদের পরিবারের জন্য বিশাল গর্ব।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শমীত সোম বলেন, এখানে আগেও এসেছি, কিন্তু জাতীয় দলে খেলার পর এটাই প্রথম আসা। ক্লান্ত লাগছে, তবে সবার ভালোবাসায় মন ভরে গেছে। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো-এটা আমাদের জন্য বিশেষ সাফল্য। দলের সবাই বিশ্বাস রেখেই খেলেছিল, তাই জয় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সিজন শেষে ছুটি পাওয়া গেছে, তাই বাড়িতে এলাম। দাদু মানিক সোম ভালো ফুটবলার ছিলেন-এটা শুনেছি, তবে তাকে দেখার সুযোগ পাইনি। আমার ফুটবল প্রতিভার উৎস ভাবতে গিয়ে দাদুর কথা মনে পড়ে যায়-এটা আমার কাছে বিশেষ কিছু।
বাড়িতে প্রিয় খাবারের কথাও জানান এই তরুণ ফুটবলার বলেন “বাড়িতে আলু ভাজা, পেঁপে ভাজা, ইলিশ ভাজা, পোলাও-এসব খুব পছন্দ। এগুলো খাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে জাতীয় দলে উঠতে পারবে। আমাদের বয়স বাড়ার পর তারাই দল সামলাবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি জরুরি।”
দলের পরিবেশ নিয়ে শমীত বলেন, “আমাদের টিম এখন খুব ভালো। সবার সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার সুযোগ আছে। নতুন অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে এবং ওরা বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ। বাফুফেও আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।”
জাতীয় দলের এই তরুণ ফুটবলারের ঘরে ফেরা শ্রীমঙ্গলে আনন্দের ঢেউ তোলে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা-আগামী দিনে শমীত সোম দেশের ফুটবলে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবেন।