দাম্পত্য জীবনে আল্লাহর রহমত লাভের উপায়

রাত গভীর হলে চারপাশের পৃথিবী নিস্তব্ধ হয়ে আসে। মানুষ ঘুমে ডুবে যায়। সেই নীরবতার ভেতর কিছু মানুষ জেগে ওঠে এক ভিন্ন আহ্বানে। তারা দাঁড়িয়ে যায় প্রভুর দরবারে, তাহাজ্জুদ আদায় করতে। এটা তাদের আত্মাকে নির্মল করে, হৃদয়কে শান্ত করে এবং ঘরে এনে দেয় বরকতের ছোঁয়া। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী যদি তাহাজ্জুদ আদায় করে, তাহলে দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ে, সম্পর্কের ভেতর জন্ম নেয় আধ্যাত্মিক বন্ধন এবং বর্ষিত হয় আল্লাহর রহমতের অজস্র ধারা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম)

যে স্বামী-স্ত্রী রাতের ইবাদতে একে অপরকে জাগিয়ে দেয়, তাদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ওই পুরুষকে রহমত করুন যিনি রাতে নামাজ আদায়ের জন্য জাগ্রত হলেন এবং তার স্ত্রীকে জাগালেন। যদি স্ত্রী জাগতে গড়িমসি করে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন। একইভাবে আল্লাহ ওই মহিলাকে রহমত করুন যিনি রাতে নামাজ আদায়ের জন্য জাগ্রত হলেন এবং তার স্বামীকে জাগালেন। যদি স্বামী জাগতে গড়িমসি করে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন।’ (আবু দাউদ)

তাহাজ্জুদের সময় দম্পতির একসঙ্গে ইবাদত কেবল আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম নয়, এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও আধ্যাত্মিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে। একে অপরকে আল্লাহর পথে উদ্বুদ্ধ করা আসলে জান্নাতের পথে সহযাত্রী হওয়ার লক্ষণ। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কোনো লোক রাতে জাগ্রত হয়ে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে উভয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তাদের নাম অধিক হারে আল্লাহর জিকিরকারী হিসেবে লেখা হয়।’ (আবু দাউদ)

মহান আল্লাহ তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায়।’ (সুরা সাজদা: ১৬)

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার