চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রুলের শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। এর আগে গত ১২ নভেম্বর হাইকোর্ট শুনানির জন্য এদিন ধার্য করে। ওইদিন রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি কার্যকর করা হবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুলের ওপর শুনানি শুরু করেছি। ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি চুক্তির কার্যক্ররের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রক্রিয়া চালাতে গেলে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি লাগবে। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি এখন নেই। বিষয়টি হাইকোর্টে তুলে ধরেছি। আগামীকাল (আজ) পরবর্তী শুনানি হবে।’ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এ রিট আবেদনটি করেন। গত ৩০ জুলাই চুক্তির বৈধতা নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলে দেশি অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা নিয়ে রায় আজ : নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায় হবে আজ বৃহস্পতিবার। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত আপিলের ওপর এ রায় দেবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। আজ আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এ-সংক্রান্ত আপিল মামলাটি রায়ের জন্য ১ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। গত ১১ নভেম্বর এ-সংক্রান্তে শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন (২০ নভেম্বর) ধার্য করেছিল সর্বোচ্চ আদালত।
২০১০ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। তখন আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির মধ্যে তিনিসহ চারজন বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এ রায় হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই পরের বছর তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ২৫ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষে সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন। এরপর পৃথক সময়ে একই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নওগাঁর রানীনগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন এ আপিল মামলায় পক্ষভুক্ত হন। রিভিউ আবেদনের ওপর গত ২৭ আগস্ট শুনানি শুরু হয়। ওইদিন রিভিউ নাকি আপিলের ওপর শুনানি হবে, সে বিষয়ে আইনজীবীদের বক্তব্য নিয়ে আপিলের অনুমতি মঞ্জুর করে আপিল শুনানির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরে ২৬ আগস্ট এ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে তখনকার বিএনপি সরকার। এ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আপিল করে রিটকারীপক্ষ। ২০১০ সালের ১ মার্চ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আটজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শুনানিতে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। ওই বছরের ১০ মে আপিল মঞ্জুর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। তবে রায়ের দিন আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে অভিমত দেন বিচারপতি খায়রুল হক। যদিও পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই পর্যবেক্ষণ ছিল না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তিসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রস্তাব পাস করিয়ে নেয়।