ড. দেবপ্রিয় বললেন

আমরা কেমন নির্বাচন পাব প্রশ্ন জনগণের মনে

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেনে, ‘দেশ নির্বাচনমুখী হয়ে উঠছে, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু আমরা কেমন নির্বাচন পাব সেই প্রশ্ন জনগণের মনে রয়ে গেছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাকনির্বাচনী উদ্যোগ : আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের মনে এখনো যে শঙ্কা ও ভীতি রয়েছে, তা দূর করা না গেলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, জনগণ আস্থা না পেলে নির্বাচন গণতান্ত্রিক রূপ পায় না। তাই মুক্ত আলোচনা, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতে আস্থা পুনরুদ্ধার সময়ের দাবি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা বহুদিন ধরে আলোচিত হলেও বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। পদ্মা সেতু চালুর পর প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। জমির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কর্মসংস্থান বাড়েনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের শ্রমিককে আকৃষ্ট করতে অঞ্চলভিত্তিক শিল্পায়ন জরুরি। খুলনা অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প, চিংড়ি ও মাছ উৎপাদন এবং পর্যটন খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পর্যটনশিল্প গড়ে ওঠা সম্ভব। তিনি বলেন, এলাকা থেকে যারা নির্বাচন করবেন, তাদের অবশ্যই আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে দিতে হবে। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম-পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জবাবদিহি তৈরি করবে।

বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য দক্ষ বন্দরব্যবস্থা অপরিহার্য। প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ জরুরি হলেও তা অবশ্যই স্বচ্ছ পদ্ধতিতে হতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সঠিক সংস্কার যদি বেঠিক পদ্ধতিতে করা হয়, তাহলে তার সুফল পাওয়া যায় না। বন্দর সংস্কারে যে দ্রুততা ও অস্বচ্ছতা দেখা গেছে, তাতে ভালো উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।

ড. দেবপ্রিয় জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার প্রয়োজন, বিনিয়োগও প্রয়োজন; কিন্তু তা হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, উন্মুক্ত আলোচনা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তাহলেই সংস্কার টেকসই হবে।

রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও খুলনা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন, এনসিপির ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় সমাপনী বক্তৃতা করেন সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। পরামর্শ সভায়, খুলনা ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ নাগরিক, শিক্ষক, গবেষক, রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি, আইনজীবী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা আগামী নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেখানে উঠে আসে নিরাপদ সড়ক, শিল্পের উন্নয়ন, পলিথিন ও সুন্দরবনের পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং প্লাস্টিক বর্জন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান, উপকূলীয় মানুষের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা ধরনের প্রত্যাশা।