রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফরাস উদ্দিন ভবন ও মূল ভবনের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাড্ডা থানা-পুলিশের দাবি, ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে বলেও জানান তরা।
জানা গেছে, নিহত শিক্ষার্থীর নাম বিএম মুশফিকুজ্জামান (২০)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে। বর্তমানে বাবা বিএম মোখলেসুর রহমান ও মা স্কুলশিক্ষিকা কমলা আক্তারকে নিয়ে খিলগাঁও থানার পাশে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুশফিকুজ্জামান নামে ওই শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে এসেছিলেন। পরে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন দুই ভবনের মাঝখানে তার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খবর দিলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেডিকেলে নিহত মুশফিকুজ্জামানের চাচা মনিরুজ্জামান মনির জানান, গতকাল বিকেলে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি সে ইউনিভার্সিটির কোনো একটি ভবনের দশতলা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে মুশফিকুজ্জামানের মরদেহ দেখতে পাই। সে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাকে কেউ ফেলে দিয়েছেন, নাকি এমনি এমনি পড়ে গিয়েছেন, তদন্ত করে বের করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ওসি হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ পাওয়ার সংবাদ আসে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। কারণ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছি, ওই শিক্ষার্থী ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যান। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।’
ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাস থেকে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি একটি বিল্ডিংয়ের পাশে পড়েছিল। মৃত্যুর কারণ পুলিশ বলতে পারবে। আমরা গিয়ে দেখেছি লাশটি পড়ে আছে, এখন তিনি কি ওপর থেকে পড়েছেন, তাকে কি কেউ ফেলে দিয়েছেন, নাকি অসুস্থ অবস্থায় এখানে এসে মারা গেছেন, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’