গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে সুড়ঙ্গে আটকে আছে হামাসের প্রায় ২০০ যোদ্ধা। তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে যখন ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর আলোচনা চলছে; তারমধ্যেই সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে আসা ৬ হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। আটক করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও ৫ জনকে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ রাফাহ’র দুটি ভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জনের দল ‘তথাকথিত ইয়েলো লাইন’-এর দিকে এগিয়ে আসায় এই হামলা চালানো হয়। আইডিএফের নাহাল ব্রিগেড এই হামলা চালায়। তাদের দাবি হামাসের যোদ্ধারা সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে ইসরায়েলি সেনাদের দিকে এমনভাবে এগিয়ে আসছিল, যা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছিল।
গত মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও রাফাহ’তে আটকে থাকা হামাস যোদ্ধাদের ভবিষৎ নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি কোনো পক্ষই। এর আগে ইসরায়েল শর্ত দিয়েছিল, হামাসের আটকে থাকা ২০০ যোদ্ধাকে তাদের কাছে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তাদের ছাড়া হবে। আর কয়েকজনকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে হামাস বলেছিল, তাদের যোদ্ধারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না। মাঝে যুক্তরাষ্ট্র আটকে থাকা এসব যোদ্ধাদের আত্মসমর্পণের বিনিময়ে গাজায় ফেরার সুযোগ দেওয়া প্রস্তাব দিলেও ইসরায়েল ও হামাস কেউই তা মেনে নেয়নি।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে এমন অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলছে, দখলকৃত এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোর করে সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল। শুক্রবার টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের কথিত ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’-এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জেনিনের শরণার্থী শিবিরে এই অভিযান শুরু হয়। পরে তা তুলকারেম, নুর শামসসহ আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।