শিশুর খাবার কেমন হবে

শিশুর শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপর। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জানিয়েছেন শ্যামল আতিক

ছয় মাস বা কাছাকাছি সময়ে দ্বিতীয় পর্বের খাবার শুরু করতে হয়। দৈহিক বৃদ্ধিজনিত কারণেই বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়। তা না হলে, শিশু অপুষ্টির শিকার হতে পারে। যেহেতু মায়ের দুধে কার্বোহাইড্রেড ও প্রোটিন থাকে, তাই প্রথমে এ ধরনের খাবার দিলে শিশু সহজেই হজম করতে পারে। নরম জাউ দিয়ে শুরু করতে পারেন অথবা কয়েকটি ভাত চটকে দিতে পারেন। প্রথম দিকে ভাত, ডাল, আলু, মিষ্টি কুমড়া, কলা ইত্যাদি দিতে পারেন। এসব খাবার শিশু সহজে হজম করতে পারে। শিশুর প্রথম খাবার আসলে শক্ত নয়, এটা হচ্ছে ম-। ধীরে ধীরে শক্ত খাবারে যাবেন। শিশুকে যদি নরম খাবারে অভ্যস্ত করেন, পরে শক্ত খাবার খেতে চায় না। নতুন খাবার যোগ করবেন একেকটি করে। শুরু করবেন অল্প পরিমাণ দিয়ে। অল্প দিয়ে শুরু করলে, শিশুর পাকস্থলী তা মানিয়ে নিতে পারে। যদি নতুন খাবারে শিশুর পাতলা পায়খানা, বমি বা এলার্জিজনিত র‌্যাশ ইত্যাদি দেখা দেয়, দ্রুত ওই খাবার বন্ধ করে দিন।  প্রাথমিক কিছু খাবারে অভ্যস্ত হওয়ার পরেই খিচুড়ি দেওয়া ভালো। আনুমানিক সাত মাস বা কাছাকাছি বয়সে। খিচুড়ি রান্নার নিয়ম হচ্ছে চালের অর্ধেক ডাল, পরিমিত তেল। চেষ্টা করবেন চিনি জাতীয় খাবার বর্জন করতে। চিনি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ছাড়াও চিনি জাতীয় খাবারে শিশু একবার অভ্যস্ত হলে অন্য খাবার খেতে চায় না। শিশুকে সময়ে অসময়ে চিপস, চকোলেট, আইসক্রিম, ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস, চানাচুর ইত্যাদি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব খাবার দিয়ে পাকস্থলী ভরে গেলে শিশু স্বাভাবিক খাবার খেতে চায় না। শিশু তখনই খাবে, যখন তার ক্ষুধালাগবে। তাই ক্ষুধার্ত হওয়ার আগে খাবার নিয়ে শিশুর পেছনে ছোটাছুটি করবেন না। জোর করে খাওয়াবেন না। জোর করলে খাবারের প্রতি শিশুর স্থায়ী অনীহা বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে। আমার বাচ্চা খায় না শিশুর সামনে এ ধরনের কথা অন্যকে বলবেন না। এতে শিশুর আত্মসম্মানে লাগে। প্রতিশোধ হিসেবে শিশু খাবারের প্রতি অনীহা আরও বাড়িয়ে দেয়। শিশুর সামনে কোনো নির্দিষ্ট খাবার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। আপনার নেতিবাচক মন্তব্য ওই খাবারের প্রতি শিশুর অনীহা তৈরি করতে পারে। প্রতিটি খাবারের স্বাদ ও গন্ধ আলাদা। স্ক্রিন দেখিয়ে বা জোর করে খাওয়ালে শিশুর মধ্যে খাবারের স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি বা বোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শিশু খাবে তার নিজের প্রয়োজনে, অন্যকে খুশি করার জন্য নয়। তুমি খেলে বাবা খুশি হবে এ ধরনের কথা বলবেন না। শাকসবজি খেতে আমার ভালো লাগে না এ ধরনের নেতিবাচক কথা শিশুর সামনে বলবেন না। এতে শাকসবজির প্রতি শিশুর বিতৃষ্ণা তৈরি হতে পারে। শিশু নিজে নিজে খেতে চাইলে তাকে উৎসাহিত করুন। নলা তুলে খাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা পরিত্যাগ করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে সে খাবার গ্রহণে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ছয় মাস পর থেকে শিশুকে বোতলে পানি খাওয়াবেন না। প্রথমে চামচ দিয়ে শুরু করুন, তারপর গ্লাসে খাওয়াতে অভ্যস্ত করবেন। কলা খেলে শিশুর ঠা-া লাগতে পারে এই কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কলা শিশুর আয়রনসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করে।