মক্কার মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব শায়েখ ডক্টর ফয়সাল বিন জামিল গাজ্জাবি গত জুমার খুতবায় মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অবলম্বনের কথা বলেছেন। গোপনে ও প্রকাশ্যে সর্বদা আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া খুতবায় তিনি পার্থিব জীবনের বাস্তবতা এবং বিপদাপদ ও পরীক্ষার স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
খুতবায় তিনি উল্লেখ করেন, এই পার্থিব জীবন মূলত এক পরীক্ষার ক্ষেত্র। দুনিয়া প্রতিদানের স্থান নয়। বিপদাপদ ও পরীক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত বিধান, যার মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন ও মিথ্যা দাবিকারীর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষের দ্বীনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই পরীক্ষার মাত্রা নির্ধারিত হয়।
মহান আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম হলো, তিনি মুমিন বান্দাদের সুখ-দুঃখ, সচ্ছলতা-অভাব ও প্রাচুর্য-দারিদ্র্য দিয়ে পরীক্ষা করেন। এসব কিছুতেই ইমানের ওপর অবিচল থাকা মহান আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ এবং তার ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। মহান আল্লাহ বান্দাকে কঠিন পরিস্থিতির মাধ্যমে যাচাই করেন, সে ধৈর্যধারণ করে সন্তুষ্ট থাকে, নাকি অধৈর্য হয়ে অভিযোগ করে। বিপদে ধৈর্যধারণের পরিণাম অত্যন্ত শুভ। এর ফলে উত্তম প্রতিদান লাভ করা যায়। কষ্টের চূড়ান্ত সীমার পরেই মহান আল্লাহ বিরাট প্রশান্তি দান করেন।
শায়েখ ফয়সাল বিন জামিল গাজ্জাবি নবীদের জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সৃষ্টির সেরা হওয়া সত্ত্বেও নবীরাই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। হজরত ইব্রাহিম, লুত ও নুহ (আ.)-এর মতো নবীরা নিজ জাতি থেকে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছেন। হজরত দাউদ ও সুলাইমান (আ.)-এর পরীক্ষা ছিল অঢেল নেয়ামত ও রাজত্ব দিয়ে। ইউসুফ (আ.) ফেতনা ও প্রবৃত্তির পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। আইয়ুব (আ.) কঠিন শারীরিক অসুস্থতা ভোগ করেছেন। মুসা (আ.) নানাভাবে কষ্টের শিকার হয়েছেন। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর পথে অবর্ণনীয় কষ্ট ও বিপদের মোকাবিলা করেছেন। নবীদের এই কঠিন পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো, তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং পুণ্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া। তাদের পথ অনুসরণকারী সত্যবাদী মুমিন ও ওলিরাও দ্বীনের পথে অটল থাকতে গিয়ে নানা কষ্ট স্বীকার করেছেন।
সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামের জয়ে তারা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিয়াবে আবি তালিবে তিন বছর অবরুদ্ধ থেকে তারা ক্ষুধা ও কষ্টের চরম সীমা অতিক্রম করেছেন। তবুও ইমান থেকে বিচ্যুত হননি। খন্দকের যুদ্ধেও তারা অটুট মনোবল ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নবীজি (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা সকল বাধা উপেক্ষা করেছেন। মহান আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
খতিব আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শরিয়তবিরোধী সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতিও ইমানের এক বড় পরীক্ষা। অধিকাংশ মানুষ ভুল পথে চললেও মুমিনকে হেদায়াতের পথে অটল থাকতে হবে। শরিয়ত যা ঘৃণা করে এবং হারাম করেছে সেটার মোকাবিলা করাই ইমানের পরিচায়ক। অন্যায় ও অশ্লীলতা দেখে তা প্রতিরোধ করলে ইমান বাড়ে। আর তা মেনে নিলে ইমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তত অন্তরে ঘৃণা পোষণ করা ইমানের দুর্বলতম স্তর, তবে অন্যায়কারীদের সঙ্গ ত্যাগ করা অপরিহার্য।
২১ নভেম্বর শুক্রবার, মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সৌদি প্রেস এজেন্সি থেকে অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ আতিকুর রহমান