খুলনা ও ঠাকুরগাঁওয়ে বাউলদের ওপর হামলা

বাউল সাধকের ওপর হামলার বিচার ও গ্রেপ্তার বাউলের মুক্তির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৌহিদী জনতা নামে একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এ সময় অতর্কিত হামলায় তিনজন বাউল আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। হামলার শিকার আহত বাউলরা হলেন মকলেস, আলামিন হোসেন ও সানোয়ার হোসেন।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্প্রীতির ঐক্যের ব্যানারে বাউল সাধকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং অভিযোগে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বাউলশিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে শহরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের ঘেষণা দেয়। এরপর তৌহিদী জনতা নামে একটি গোষ্ঠী দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন শুরু হলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বাউলরা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুব আলম রুবেল বলেন, কয়েকজন বাউল প্রাণে বাঁচতে আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত জেলা আইনজীবী সমিতির ভেতর আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলাকারীরা বিভিন্ন সেøাগান দিতে দিতে শোডাউন দেয়। আদালতপাড়ার মতো একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গায় এমন অতর্কিত হামলা জাতির জন্য নিরাপত্তাজনিত হুমকি। আমরা এমন নৈরাজ্য কখনোই প্রত্যাশা করি না।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি সারোয়ার আলম খান বলেন, বাউলসাধকদের চৌরাস্তায় একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে পুলিশ আগে থেকে অবস্থান নিয়েছিল যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বাউল সাধক আদালত প্রাঙ্গণে চায়ের দোকানে অবস্থানকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

খুলনার সমাবেশেও হামলা : বাউল আবুল সরকারের মুক্তিসহ সারা দেশে মাজার, দরগা ভাঙচুরের প্রতিবাদে খুলনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী আহতের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নগরের শিববাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি কবির হোসেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বামপন্থি কয়েকটি সংগঠন মানিকগঞ্জের বাউল আবুল সরকারের মুক্তিসহ বিভিন্ন স্থানে বাউল ও দেশি সংস্কৃতির হামলা এবং বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যানার নিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন।

অন্যদিকে একই স্থানে একই সময় ‘ছাত্র-জনতা’ নামে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে প্রচার শুরু করেন একদল লোক। তাদের অভিযোগ, বাউল আবুল সরকার ‘আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’ করেছেন। ‘ছাত্র-জনতা’ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে শিববাড়ি মোড়ের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাউল আবুল সরকারের পক্ষের গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের প্রতিহতের ঘোষণা দেন।

হামলাকারীরা ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে তাদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেন। এ সময় কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বাউলদের পক্ষে কেউ দাঁড়ালে তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ‘নাস্তিকদের জায়গা খুলনায় হবে না’ বলে স্লোগান দেন কেউ কেউ।

ওসি কবির হোসেন বলেন, একই স্থানে দুটি পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা থাকায় আগে থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

ব্যানার পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। পুলিশ সব পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছে।

এর আগে একই দাবিতে দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বাউলরা সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে।