পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত

পঞ্চগড়ে ১৫ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে জেলার তেঁতুলিয়ায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ১৩ ডিগ্রি  সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ১৫ দিন ধরে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী হিমালয়ছোঁয়া জেলা পঞ্চগড়ে ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ক্রমেই নামছে তাপমাত্রার পারদ। সকাল-সন্ধ্যায় বইছে হিমেল হাওয়া, মাঠ-ঘাটে পড়ছে শিশিরের ছোঁয়া। গতকাল সকাল ৯টায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাপ ছিল ৯৭ শতাংশ। গত বুধবার দিনের সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সূর্য ওঠার পর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ১২ নভেম্বর সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এরপর ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে সকাল থেকে ঘনকুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। জেলার মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাঘাটও সাদা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। দৃশ্যমানতা কয়েক হাত দূরে নেমে আসায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়।

মসজিদপাড়া এলাকার অটোচালক হীরা বলেন, সকালে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালালেও সামনের রাস্তা দেখা যায় না। এখন সকালে যাত্রীও তেমন পাওয়া যায় না। যানবাহন চালকরা জানান, কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকবে চারপাশ। কোথাও কোথাও দিনের বেলাও কুয়াশা দেখা যেতে পারে। কারণ বাতাসে প্রচুর পরিমাণ জলীয়বাষ্প রয়েছে। এর ফলে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে ঠিকভাবে পৌঁছায় না, ফলে রাতে দ্রুত ঠা-া পড়ে এবং ভোরে ঘনকুয়াশার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের আবহাওয়া সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে দেখা যায়। তবে এর প্রধানতম কারণ হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। নভেম্বরের শেষ দিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বর জুড়ে তীব্র শীত পড়বে। পঞ্চগড় ও আশপাশের এলাকায় একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে শীত ও শীতজনিত রোগ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তুতির জন্য জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আসিফ আলী।