কোরিয়াকে একাই রুখে দিলেন আমিরুল

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন আমিরুল ইসলাম। প্রথম হ্যাটট্রিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হারের ব্যবধান কমিয়েছিলেন। রবিবার তার হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের নাম তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। আমিরুলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মত হকির যে কোন পর্যায়ে বিশ্বকাপে পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মাদুরাইয়ে জুনিয়র বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও দেখা গেছে লড়াকু বাংলাদেশকে। ম্যাচটা ৫-৩ গোলে হারলেও পেনাল্টি কর্নার থেকে তিন গোল করে বাংলাদেশের মনোবল চাঙ্গা রেখেছিলেন বিকেএসপির ছাত্র আমিরুল। তার কল্যানেই হকির ইতিহাসে বাংলাদেশ পেয়েছে অন্যতম সেরা সাফল্য।

অথচ প্রথম দুই কোয়ার্টারে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল কোরিয়া। তবে পরের দুই কোয়ার্টারে আর গোল তো হজম করেইনি বাংলাদেশ, উল্টো পেনাল্টি কর্নার থেকে তিন গোল করে আমিরুল হয়েছেন ম্যাচসেরা।

প্রথম কোয়ার্টাররে ৮ ও ১৩ এবং দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ১৭ মিনিটে তিন গোল পায় দক্ষিণ কোরিয়া। অষ্টম মিনিটে লি মিন হাইওক পেনাল্টি কর্নার থেকে এগিয়ে নেন কোরিয়াকে। পাঁচ মিনিট পর সন সিওংহান আরেকটি পিসি থেকে সফল লক্ষ্যভেদে ব্যবধান বাড়ান। আর ১৭ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ৩-০ করেন লি মিন হাইওক।

তৃতীয় কোয়ার্টার থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের ঘুড়ে দাঁড়ানোর অভিযান। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পিসি থেকে প্রথম গোল পান আমিরুল। চতুর্থ কোয়ার্টারের প্রথম মিনিটেই আমিরুল আবার তার স্টিকের যাদু দেখান, তাতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি কর্নারের সুযোগকে গোলে পরিণত করে বাংলাদেশের পয়েন্টের খাতা খোলেন আমিরুল। তবে ম্যাচের বাকি সময়ে যেভাবে খেলেছেে বাংলাদেশ, তাতে এ ম্যাচে জয়ও পেতে পারতো তারা।

তারপরও শক্তিশালী কোরিয়াকে জিততে না দেওয়ার অনুপ্রেরণা সঙ্গী করে ২ ডিসেম্বর পুলের শেষ ম্যাচে পরাশক্তি ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সিগফ্রাইড আইকম্যানের শীষ্যরা।