ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ ‘পুরোপুরি বন্ধ’ বিবেচনা করতে সব এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সাম্রাজ্যবাদী বা ঔপনিবেশিক হুমকি বলে অভিযোগ করেছে ভেনেজুয়েলা। এতে করে লাতিন আমেরিকার দেশটির বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক পাচারকারী ও মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে বলছি, ভেনেজুয়েলা ও আশপাশের সব আকাশসীমাকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ বিবেচনা করুন। জবাবে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের দেশের আকাশসীমা ‘বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ দিয়েছেন। তার মন্তব্য জনগণের বিরুদ্ধে একটি অদ্ভুত, বেআইনি এবং অযৌক্তিক আগ্রাসন।
কোনো দেশের আকাশসীমা আইনগতভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে, ট্রাম্পের অনলাইন পোস্ট ভ্রমণ অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং বিমান সংস্থাগুলোর ওই অঞ্চলে ফ্লাইট বহাল রাখা নিয়ে সাময়িকভাবে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যা মাদক পাচার রোধের উদ্দেশ্যে গৃহীত উদ্যোগ বলে দাবি করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে মাদুরোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার রোধের নামে তাকে উৎখাতের পাঁয়তারা করছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজ তৎক্ষণাৎ কোনো জবাব দেয়নি।
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (এফএএ) ভেনেজুয়েলার ভেতরে ও আশপাশে ‘বর্ধিত সামরিক কার্যকলাপ’ সম্পর্কে এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করেছে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্বের সার্বভৌম সরকারগুলো, জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট বহুপক্ষীয় সংগঠনগুলোকে এই অনৈতিক আগ্রাসন কার্যক্রম দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাই। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ও প্রায় ১৫ হাজার সেনা ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই মোতায়েন যা ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় উপস্থিতি। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান খুব শিগগিরই শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১টি নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ৮০ জনকে হত্যা করেছে। তবে নৌকাগুলোতে মাদক ছিল এমন কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ করেনি।