চাঁদপুর-২ আসনে (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডক্টর জালাল উদ্দিন। এ ঘোষণার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও বেড়ে গেছে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা প্রায়ই বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়িয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। তারা সবাই নিজ নিজ পক্ষে মনোনয়ন পাওয়ার জোর দাবিদার ছিলেন। তারা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম নুরুল হুদার ছেলে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা, ঢাকা মহানগর উত্তর (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ড্যাবের সভাপতি সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, মতলব দক্ষিণের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সহসভাপতি এমএম শুক্কুর পাটোয়ারী, বাংলাদেশ মেডিকেলের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালেও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তানভীর হুদা ও শুক্কুর পাটোয়ারী। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান ডক্টর জালাল উদ্দিন।
৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় প্রকাশ করলে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি শুরু করেন তানভীর হুদার অনুসারীরা।
একই দাবিতে মাঠে নেমেছে এমএ শুক্কুর পাটোয়ারীর গ্রুপ ও সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের গ্রুপও। নির্বাচনী মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তানভীর হুদা ও শুক্কুর পাটোয়ারী এবং সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের অনুসারীরা প্রায় প্রতিদিনই (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) উপজেলার কোনো না কোনো স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়া সমর্থকরা মশাল মিছিল করে বিএনপির প্রার্থী ডক্টর জালাল উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবি করেছেন। আবার ডক্টর জালাল উদ্দিনের সমর্থকরা মনে করছেন যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চারপক্ষই এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে।
ধানের শীষে মনোনয়ন পাওয়া ড. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়ার আগে চাঁদপুর-২ আসনের সব প্রার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আমরা সবাইল মনোনীত ব্যক্তির পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দিই। পরে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে একাধিক প্রার্থী ধানের শীষের পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আমার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। এ ছাড়া আমি অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর হাতে-পায়ে ধরে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান করে যাচ্ছি। তবে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তারা কেউ বিএনপির নন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে অন্যান্য দলের নিজস্ব প্রচার-প্রচারণা বিএনপির মধ্যে বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না বলে মনে করেন তিনি।