মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ একটি অপরটির পরিপূরক। আমরা প্রায়শই দেখি, যারা অন্যদের আশার বাণী শোনান বা ধৈর্যের কথা বলেন তারাও গোপনে নিজেদের যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করেন। এই ভেঙে পড়া আসলে কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি অমোঘ নিয়ম এবং মহান রবের পক্ষ থেকে আসা এক বিশেষ পরীক্ষা। জীবনের বাঁকে বাঁকে পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত নানা সংকটে মানুষ বিপর্যস্ত হবেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই বিপর্যয়কে আমরা কীভাবে গ্রহণ করছি?
মুমিনের জন্য এই পৃথিবী বিলাসিতার কোনো স্থান নয়। দুনিয়া এক কঠিন পরীক্ষাক্ষেত্র, যেখানে প্রতিমুহূর্তে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অমিয় বাণী অনুযায়ী দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত, যা সহিহ মুসলিমের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এখানে নিরবচ্ছিন্ন সুখের আশা করা বা কেন আমার সঙ্গেই এমন হলো বলে আক্ষেপ করা একজন বিশ্বাসীর কাজ নয়। বরং পাহাড়সম দুঃখের মধ্যেও আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা রেখে টিকে থাকাই হলো প্রকৃত ইমানি দৃঢ়তা।
লোহা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয় তেমনি মানুষও দুঃখকষ্টের আগুনে পুড়ে নিজেকে শানিত করে। নবী ও রাসুলদের থেকে শুরু করে যুগের সব বিশেষ ব্যক্তিই ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। ঝরা পাতা ঝরে যাওয়ার পরই যেমন গাছে নতুন সজীবতা আসে তেমনি অপ্রয়োজনীয় আবেগ ঝরে গেলে মানুষ তার শেকড়ের সন্ধান পায়।
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের হতাশ হতে নিষেধ করেছেন এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে বলেছেন, যা সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’
লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার