আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব ও পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দিচ্ছিল না রাওয়ালপিন্ডি আদিয়ালা কারাগার কর্র্তৃপক্ষ। এরপর থেকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পিটিআই। তবে আদিয়ালা কারা কর্র্তৃপক্ষ গতকাল ইমরান খানের বোন উজমা খানকে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে উজমা খান জেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলের বাইরে কয়েকশ তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্মী জড়ো হয়ে ইমরানের স্বাস্থ্য ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা দাবি করেন।
জেল থেকে বেরিয়ে উজমা বলেছেন, ইমরান খান অত্যন্ত রাগের সঙ্গে জানিয়েছেন যে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চলছে। তবে পিটিআই প্রধান পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আধা ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে উজমা খানুম জানিয়েছেন, তার ভাইকে সারা দিন জেলের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। বাইরে যেতে দিচ্ছে খুব অল্পসময় এবং কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতেও দিচ্ছে না জেল কর্র্তৃপক্ষ। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্য বন্দির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছেন কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে আগে যারা দেখা করেছেন, তারা তার সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পিটিআই এর বিক্ষোভকে ঘিরে পাকিস্তানের দুই বড় শহর ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সেকশন ১৪৪ কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং যারা আইন অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইসলামাবাদে নেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছে। ওই প্রশ্নের জবাবে তালাল চৌধুরী বলেছেন, ইমরানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদে স্থানান্তরের বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়। ইসলামাবাদে নতুন জেলের নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। এরপর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাই আপাতত সেটি নিশ্চিত নয়। ৭২ বছর বয়সী ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ইমরান দাবি করেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার রাজনৈতিক দল পিটিআই মনে করছে, এই মামলাগুলো তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে করা হয়েছে।