পরিষদ চত্বরে এসিল্যান্ডের গাড়ির চাকায় পিষ্ট ২ বছরের শিশু

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরকারি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই বছরের শিশু ফাইজা আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে উপজেলা চত্বরে আসে। এ সময় দ্রুতগতিতে প্রবেশ করা সহকারী কমিশনারের সরকারি গাড়িটি শিশুকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই বছরের ফুটফুটে শিশু ফাইজার। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত গাড়িচালক তাইবুর হোসেনকে ফোন করা হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহত ফাইজার বাবা ফাইজুল হক স্থানীয়ভাবে এসকেএফ একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার তেরদ্রন ডাকঘর পুটিয়া গ্রামে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হোমনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ মোফাসের এবং নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম দ্রুত হোমনা সরকারি হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে শোকাহত বাবাকে জড়িয়ে ধরে এসিল্যান্ড নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসি। এ শিশুটি আমার সন্তানও হতে পারত। আমি একজন বাবা হিসেবে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করব।

হোমনা থানার ওসি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে গতকাল বুধবার বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রাসনি পলি ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার ভেতরে ট্রলি গাড়ির (ফর্কলিফট) ধাক্কায় মার্জিয়া বেগম (৪০) নামে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে ভুনবীর ইউনিয়নের সরকারবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মার্জিয়া পাত্রীকুল গ্রামের তেপাড়া এলাকার আবদুল হাসিম মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় পেছন থেকে পলি বহনকারী একটি ট্রলি গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে অফিস, যন্ত্রপাতি, সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটারসহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেছে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ।

মাগুরায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবদুর রহিম (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় সদর উপজেলার মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কের মালিকগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহিম শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার মাহবুবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কের সদর উপজেলার মালিকগ্রাম এলাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে আবদুর রহিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। মাগুরা সদর হাসপাতালে কর্মরত পুলিশ আবু বক্কার জানান, স্থানীয়রা ওই যুবককে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শওকত আলী (৬৮) নামে এক নৈশপ্রহরী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কে জেলা শহরের বনফুল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শওকত শহরের পূর্ব কুখাপাড়ার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, শহরের একটি মার্কেটে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন শওকত। সকালে দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরার পথে হালকা কুশায়া থাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে ওই সড়কে।

এ ছাড়া, নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় ড্রামট্রাকের ধাক্কায় মামুনুর রশীদ (৪০) নামে সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন সার্জেন্ট নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাহিমালি ইক্ষু খামার এলাকায় বনপাড়া-লালপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মামুনুর রশীদ জেলার লালপুর উপজেলার বড় ময়না গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে। তিনি ১০ দিনের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এনায়েত হোসেন (৬৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের একটি আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, রাজধানীর রামপুরা এলাকার বনশ্রীতে অছিম পরিবহনের একটি বাসের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম রুস্তম হাওলাদার (৬২)। গতকাল সকাল ৮টার দিকে বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুলসংলগ্ন বন্দর নার্সারি গ্যাপের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল থেকে স্টাফ কোয়ার্টার যাওয়ার পথে নার্সারি গ্যাপের সামনে এক পথচারী রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় অছিম পরিবহনের একটি বাস ওই পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ওই পথচারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাসের চাপায় তার মাথা থেঁতলে মগজ বেরিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই বাসটি আটক করা হয়। তবে চালক পালিয়ে যায়।

নিহত রুস্তম ঘটনাস্থলের পাশে নির্মাণাধীন ট্রপিক্যাল টাওয়ারের সাততলায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। রামপুরা থানার ওসি মো. রাহাৎ খান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তার সহযোগী পলাতক।