সিইসির সঙ্গে বৈঠক

যথাসময়ে তফসিল ও নির্বাচন চায় বিএনপি

প্রাইভেট প্রেসে ব্যালট পেপার না ছাপাতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ব্যালট পেপার সাধারণত সরকারি প্রিন্টিং প্রেসে ছাপা হয়। এবার আমরা শুনছিলাম যে এর বাইরেও কোথাও ছাপানোর চিন্তাভাবনা আছে। আমরা আলোচনা করেছি, যেন বেসরকারি সংস্থায় ছাপানো না হয়। তারা আমাদের জানিয়েছেন, কোনো প্রাইভেট প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশঙ্কা থেকেই আমরা আলোচনা করেছি। অনেক কারণ আছে। একবার চেষ্টা হয়েছিল, সম্ভবত ২০০৮ সালে। আমরা জানি যতটুকু ছাপানো হয়েছে, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়।’

তিনি বলেন, ‘এবার যে ভোটটা হচ্ছে সেখানে দুইটা ব্যালট থাকছে। একটা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট এবং আরেকটা গণভোটের ব্যালট। যেখানে একটা ব্যালটে ভোট দিতে যথেষ্ট সময় লাগে, সেখানে দুইটা ব্যালটে ভোট দেওয়া আরও বেশি সময় লাগার কথা। কিন্তু আমরা দেখলাম নির্বাচন কমিশন একটা প্রস্তাব করেছে, যেখানে ভোটকেন্দ্রে প্রত্যেকটা বুথে ভোটারের সংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা আমরা নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছি। আমরা চাই, সব ভোটার যেন ভোট দিতে পারে। কেউ যেন ভোটের অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।’

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আগে একটা ভোট দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ ভোটার থাকত একটা বুথে, সেখানে এখন সংখ্যাটা অনেক বেড়ে যাবে। এবার ভোট হবে দুইটা ব্যালটে। এটা কী করে সম্ভব? অনেক লোক তো ভোট দিতে পারবেন না।’ ওনারা বলেছেন যে, তারা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। আগামী রবিবারে সম্ভবত নির্বাচন কমিশনের একটা মিটিং আছে। সেখানে তারা আলোচনা করবেন যে, কীভাবে সব ভোটার নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন। পোলিং সেন্টার বুথের সংখ্যাও বাড়ানো যায় কি না, সেসব তারা বিবেচনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ভোটের সময় ৮টা থেকে ৪টা থাকে। এটা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৫টা করা যায় কি না, কিংবা সময় একটু বাড়ানো যায় কি না, বা বুথের সংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে। এসব অনেক কিছুই তারা মাথায় রেখেছেন। আমরা পরামর্শ করেছি। তারা সামনের রবিবার এটা নিয়ে কথা বলবেন এবং কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি আমরা মনে করি সেটা যুক্তিসংগত এবং বাস্তবসম্মত তাহলে ঠিক আছে। আর না হলে পরে আবার আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। কারণ আমরা চাই, সব ভোটার নির্বিঘেœ ভোট দিক।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। তার রোগমুক্তির জন্য সবাই দোয়া করছে। আমরা তার সুচিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আল্লাহর মেহেরবানিতে সম্ভবত কাল ভোরে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। আমরা আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হবেন। এ বিবেচনায় আমরা আজকেও আরও কিছু প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছি। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। খোদা না করুন অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এ প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হোক। তফসিল ঘোষণা করার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা বরাবরই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণ যেন ঠিক করতে পারে রাষ্ট্র কে চালাবে। এটা বিলম্বিত হোক আমরা চাই না। তাই আমরা এখনো বলছি, যথাসময়ে নির্বাচন হোক।’

তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো সংকট নেই। এটা নিয়ে বিশেষ আলোচনা করার কিছু নেই। উনি বাংলাদেশের নাগরিক। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নাম ওঠানোর জন্য সময় পার হয়ে যায়নি। কমিশন চাইলে যেকোনো সময় পারে। আমাদের দুশ্চিন্তা নেই।’