মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিএনপির দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি গাড়ি। এসব ঘটনায় অন্তত সাতজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন স্বাধীন (২৪), সাইদুল (২৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৯), সাহিদা বেগম (৫৫), জাকির হোসেন (৪০) ও সিহাদ (১৭)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনকে। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ। তবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কামরুজ্জামান রতনের নাম ঘোষণার পর থেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা।
এরই প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় গজারিয়া উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কামরুজ্জামান রতনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিলের আয়োজন করেন মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা। মশাল মিছিলের শুরু করার মুহূর্তে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ হোসেন রাজু বলেন, আমাদের হাসপাতালে আহত দুজন এসেছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে স্বাধীন নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার দুই হাত ও মাথায় আঘাত রয়েছে।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ ফারুক বলেন, কামরুজ্জামান রতন গজারিয়া উপজেলার সন্তান। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় গজারিয়া উপজেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। আজ যে খবর আপনারা পেয়েছেন সেটি মূলত এলাকাবাসী একজোট হয়ে আওয়ামী লীগের দালালদের প্রতিহত করেছে।
অন্যপক্ষ মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার অফিসে হামলা করেছে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা আমার বাড়িতে গিয়েও হামলার চেষ্টা করেছে। হামলায় আমার বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন। আমি তাদের নিয়ে হাসপাতালে আছি। পরে কথা বলব।
জানতে চাইলে কামরুজ্জামান রতন বলেন, আমি একটু অসুস্থ সেজন্য হাসপাতাল এসেছিলাম। হাসপাতালে থেকেই খবরটি শুনলাম, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় যারা জড়িত আমি তাদের বিচার চাই।
গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা তিনজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
মনোনয়ন না পাওয়ায় হেলেন জেরিনের সমর্থকদের মহাসড়ক অবরোধ : মাদারীপুর-২ আসনে হেলেন জেরিন খানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে জেলার মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে এ অবরোধ করেন বিএনপি নেত্রী হেলেনের সমর্থক-নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে দুই কিলোমিটারের বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়ে দূর-দূরান্তের যাত্রী ও চালকরা।এ অবরোধ কর্মসূচিতে মাদারীপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি (একাংশ) ও বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন সান্টুর নেতৃত্বে বিভিন্ন নেতাকর্মীসহ শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাদারীপুর জেলার দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় মনোনয়ন স্থগিত থাকা মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে ও মাদারীপুর-২ (সদরের একাংশ ও রাজৈর) আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহানকে মনোনীত করা হয়। এদিকে প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়েন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার আসায় দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে নেমে মিছিল ও সমাবেশ করে আসছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক হিমেল আল ইমরান। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা গণসংযোগ চালান।
অবরোধকালে মাদারীপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি (একাংশ) মোফাজ্জল হোসেন সান্টু তার বক্তব্যে বলেন, মাদারীপুর-২ আসনে হেলেন জেরিন খানকে নমিনেশন না দেওয়া হলে আমরা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করব। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামীতে অর্ধদিবস হরতাল, এরপরে পূর্ণদিবস হরতাল। এমনি করে সাধারণ মানুষের দালালমুক্ত বিএনপি করে ছাড়ব, এটাই আমাদের অঙ্গীকার। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মাদারীপুর-২ আসনের নমিনেশন পুনরায় বিবেচনা করার দাবি জানানো হয় এবং একই সঙ্গে নমিনেশন দেওয়ার আগে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য জেনে নেওয়া আহ্বানও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহাসিন বলেন, বিএনপি নেত্রী হেলেন জেরিন খানের কিছু নেতাকর্মী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গত ৩ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির পক্ষ থেকে মাদারীপুরের দুটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে প্রার্থী হিসেবে শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল জামান মোল্লার নাম এবং মাদারীপুর-৩ (কালকিনি, ডাসার ও সদরের একাংশ) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে মাদারীপুর-১ আসনের কামালকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলে তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। তখন মাদারীপুর-২ (রাজৈর ও সদর উপজেলা) আসন ফাঁকা রাখা হয়।