পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে ব্যাংকক

কভিড মহামারী-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব জুড়ে পর্যটন খাতের চিত্র বদলেছে। গত কয়েক বছরে ইউরোপের পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের পছন্দের গন্তব্য হয় উঠেছে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল। চলতি সপ্তাহে ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের তালিকায় টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। তবে সেরা শহরের তকমা প্যারিসের হলেও, চলতি বছর পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি ব্যাংককে। ইউরোমনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানীতে ৩ কোটি ৩ লাখ বিদেশি পর্যটক পা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা শহরের তালিকার শীর্ষ স্থান তাই ব্যাংককের। পর্যটন, টেকসই পরিবেশ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের ১০০টি শহরের এ তালিকা তৈরি করেছে ডেটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর। সামগ্রিকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক পর্যটক বেড়েছে ১০ শতাংশ। তবে পর্যটকদের অসদাচরণ এবং বিশৃঙ্খলা এ অঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নতুন সংকট তৈরি করছে। ঐতিহাসিক শহরগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সমুদ্রসৈকতে বালুর চেয়ে পর্যটকদের তোয়ালে আর ছাতার সংখ্যাই যেন বেশি। এর সঙ্গে আছে মাতলামি আর বিশৃঙ্খল আচরণের জেরে পর্যটকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা।

ইউরোপের মতো এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোও এখন পর্যটকের ভারে ধুঁকছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে একদিকে যেমন স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর জৌলুস। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক ভ্রমণ বিশ্লেষক সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বোতল থেকে যেন দৈত্য বেরিয়ে এসেছে। এখন একে কীভাবে আবার বোতলে ভরা যাবে, সেটাই প্রশ্ন। তবে সমস্যাটা আসলে জায়গার অভাব নয়। এশিয়া বিশাল একটি মহাদেশ, এখানে দেখার মতো জায়গার শেষ নেই। অনেক অঞ্চল তো পর্যটকের অভাবে ধুঁকছে, সেখানকার অর্থনীতি বাঁচাতে পর্যটক খুব দরকার। আসল সমস্যা হলো সবাই মিলে নির্দিষ্ট কিছু জায়গাতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই উপচেপড়া ভিড়ের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। মহামারীর পর মানুষের মধ্যে জমে থাকা ভ্রমণের তীব্র আকাক্সক্ষা, এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে বিমানের সস্তা টিকিট এবং ভারত ও চীনের মতো জনবহুল দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভ্রমণের আগ্রহ বৃদ্ধি সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটন বোর্ডগুলোর লোভনীয় সব প্রচারণা। পাশাপাশি এখন বিদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের দেশ ঘুরে দেখার প্রবণতাও বেড়েছে স্থানীয় পর্যটকদের মধ্যে।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএটিএ) তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, মহামারী-পরবর্তী সময়ে এশিয়ায় পর্যটন খাত দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় (চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া) পর্যটন প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশ। এমনকি মঙ্গোলিয়ার মতো দুর্গম গন্তব্যেও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্যটনের ভর মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ভিয়েতনামে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামে বিদেশি পর্যটকের আগমন বেড়েছে ২১ শতাংশ।