সড়কে প্রাণ গেল ৭ জনের

বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গত শনিবার রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন নিহত হন। ওইদিন সন্ধ্যায় দিনাজপুরে ট্রাক-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বউ ও শাশুড়ি নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খেজুরের রস খেতে গিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। এদিকে শনিবার রাতে জামালপুরে বাসচাপায় একজন নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

ফরিদপুরে গভীর রাতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গভীর রাতে অজ্ঞাত একটি বাসচাপায় মোটরসাইকেলচালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর ব্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেল ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর আসার পথে মাধবপুর ব্রিজের সামনে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সুমন (২৫) ও ইমন (২২) নামে দুজন আরোহী নিহত হন। নিহতরা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে গুরুতর আহত অন্য আরোহী মো. আশিক মোল্লাকে (২২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার ও নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি থানায় জব্দ রাখা হয়েছে। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দিনাজপুরে বউ ও শাশুড়ি নিহত, আহত ৮ : মৃত আত্মীয়কে দেখে ফেরার পথে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের চুনিয়াপাড়ায় ট্রাকের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখামুখি সংর্ঘষে একই পরিবারের দুজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার সময় সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ৭ নম্বর ইথরাইল ইউনিয়নের নুনাইজ গ্রামের আজিজুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫৯) ও রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শেফালী (৩৮)। তারা সম্পর্কে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ।

আহতরা হলেন ময়ুরী (২৩), রোমা আক্তার (৪৫), শরিফা (৪৫), রওশনারা (৪০), আমেনা (৩৮), রাহেনা (৪৫) ও ইজিবাইকের চালক খলিলুর রহমান (৩৫)। আহতরা দিনাজপুর মেডিকল কলেজ হাসাপাতাল ভর্তি আছেন।

নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্য বাবুল হাসান জানান, সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ হাট গতকাল সকাল ১০টায় তার মা মাজেদা বেগম মারা যান। মৃত মাজেদা বেগম নিহত খাদিজা বেগমের জা ও নিহত শেফালীর শাশুড়ি। সকালে খবর পেয়ে পরিবারের সবাই মিলে মৃত মাজেদা বেগমকে দেখতে যান। সন্ধ্যায় ফেরার পথে চুনিয়াপাড়ায় ট্রাকের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। ফলে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের চালক খলিলুর রহমানের মা খাদিজা বেগম মারা যান। আহত অবস্থায় ইজিবাইকচালকসহ আটজনকে আহত অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকের কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেফালী মারা যান। ইজিবাইকের চালক খলিলুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

খেজুরের রস খেতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কিশোরের : খেজুরের রস খেতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তাওহীদ (১৫) নামের এক কিশোর।

গতকাল রবিবার সকালে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া বেইলি ব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তাওহীদ উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হারুনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে প্রতিদিনই ধানগড়া গ্রামের খেজুরের রস দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভোরে সেখানে যান। গতকাল ভোরেও রামপুর এলাকা থেকে ৯ জন কিশোর-যুবক তিনটি মোটরসাইকেলে ধানগড়া গ্রামে যায়। ফেরার পথে পাকুটিয়া বেইলি ব্রিজ পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলগুলোর একটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের লোহার রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তাওহীদ ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার এসআই শহিদুল্লাহ জানান, তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে ৯ জন ছেলে খেজুরের রস খেতে গিয়েছিল। ফেরার পথে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে এক কিশোর নিহত ও দুজন আহত হয়। আহতদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাই হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কালিহাতী থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাস্থলেই এক কিশোর নিহত হয়েছে এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত তাওহীদের মরদেহ কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাড়ি ফেরা হলো না জিমের : আত্মীয়ের দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামালপুর সদর উপজেলায় বাসচাপায় জিম আক্তার (২২) নামে এক অটোরিকশার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছে।

গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের আদর্শ বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জীম উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের লাভলু মিয়ার স্ত্রী।

আহতরা হলেন, সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের ছায়তানি গ্রামের চাঁন মিয়া (৭২), তার স্ত্রী বানেছা (৭০), একই এলাকার ইদ্রিস আলীর মেয়ে ইভা (৫) ও রিমা (১৪) এবং খুপিবাড়ী এলাকার শাকিবের সন্তান ছোয়ামনি (৪)।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, রাতে এক আত্মীয়ের দাফন সম্পন্ন করে বাড়ি ফেরার পথে আদর্শ বটতলা এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জিম মারা যায়। এ ঘটনায় চাঁন মিয়া, বানেছা, শিশু ইভা, রিমা ও ছোয়ামনিসহ ইজিবাইকচালকসহ পাঁচজন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় বাসটিকে শনাক্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।