হলুদ রেখা থেকে সরবে না আইডিএফ

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ খুব দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সঙ্গে এও বলেছেন, বেশ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গাজায় থাকা বাকি জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোষ্ঠীটি বলছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশের সুবিধার্থে তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত তারা। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির বলছেন, গাজার ‘হলুদ রেখা’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না; এটিই হবে গাজা-ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত।

ট্রাম্পের শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে গাজা থেকে ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। নেতানিয়াহু বলেন, শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি চলতি মাসের শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। গত সোমবার ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকটি আগামী ২৯ ডিসেম্বর হবে। গাজা উপত্যকায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ‘প্রতিশ্রুতি’ পালনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হামাস তাদের অবশিষ্ট অস্ত্র ‘স্থগিত বা সংরক্ষণ’ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত। অন্য এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক বাহিনীর মাধ্যমে হামাসকে নিরস্ত্র করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী উপত্যকাটিতে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ বরাবর সেনা সদস্যের সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। তবে এখন ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, যুদ্ধবিরতির পরের ধাপগুলোয় ওই সীমারেখা থেকে আর পিছিয়ে যাবে না তারা। এটিই হবে গাজা ও ইসরায়েলের ‘নতুন সীমান্ত’। সম্প্রতি গাজায় মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আর পিছিয়ে না নেওয়ার অর্থ হলো, গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইসরায়েলের। এর মধ্যে গাজার অনেক কৃষিজমি ও মিসরের সঙ্গে উপত্যকাটির রাফার সীমান্ত ক্রসিং রয়েছে। ইয়াল জামির ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন উত্তর গাজায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘হলুদ রেখা হবে (ইসরায়েলের) নতুন সীমান্ত। এটি আমাদের সম্মুখ প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে কাজ করবে। এই রেখা বরাবর আমাদের অভিযান কার্যক্রম চলবে। গাজার বড় অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা এই প্রতিরক্ষা রেখা থেকে সরব না।