অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে দেশটিতে শিশুদের জন্য টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ হলো। দেশটির পার্লামেন্টে ২০২৪ সালে অনুমোদিত এই নিষেধাজ্ঞা গতকাল বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ ৩৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট তৈরি বা বজায় রাখা থেকে বিরত রাখতে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার এই উদ্যোগকে শিশুদের ‘বিকাশের এক সংকটাপন্ন পর্যায়ে’ সুরক্ষার একটি উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স শনাক্ত করতে অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ, দেখার ধরন ও ব্যবহারকারীর ছবি যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে ভুয়া পরিচয়পত্র, এআই-নির্মিত ছবি, ডিপফেক বা ভিপিএন ব্যবহার করে বয়সসীমা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতেও ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে। টিকটক ও মেটা বলেছে, আইনটি প্রয়োগ করা কঠিন হবে। তবে তারা তা মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মেটা ইতিমধ্যে ১০ ডিসেম্বরের সময়সীমার আগেই ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে শুরু করেছে। স্ন্যাপচ্যাট এবং অন্য প্ল্যাটফর্ম সতর্ক করেছে যে, এই ব্যবস্থা তরুণদের ইন্টারনেটের আরও অন্ধকার জায়গায় ঠেলে দিতে পারে।

অন্য দেশও শিশুদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে অনুরূপ আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত নভেম্বরে একটি নন-বাইন্ডিং প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৬ নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে বয়স-উপযোগী অনলাইন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। ডেনমার্ক ১৫ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আর ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ডেনমার্ক ও গ্রিস যৌথভাবে একটি বয়স-যাচাইকরণ অ্যাপ পরীক্ষা করছে। মালয়েশিয়া ২০২৬ সাল থেকে ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আইনি চাপও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মেটা একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছে।