সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসন চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা সব আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়।
গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বাগেরহাটের সংসদীয় আসন-সংক্রান্ত রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে এবং জেলায় পূর্বের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার পৃথকভাবে আপিল করেন। পরে ১২ নভেম্বর দুটি আপিল আবেদন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ওঠে। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রেখে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে ১৬ নভেম্বর শুনানির জন্য ধার্য করে। ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে নির্বাচন কমিশন, গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ এবং একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হাফিজুর রহমান পৃথকভাবে আরও আপিল করেন। সব আপিল একসঙ্গে কার্যতালিকায় ওঠে।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ইসির আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মিয়াজী। আপিলকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মিয়াজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে হাইকোর্টের রায় অক্ষুণœ রইল। ফলে বাগেরহাট জেলায় পূর্বের চারটি সংসদীয় আসনই বহাল থাকছে এবং গাজীপুর জেলায়ও পাঁচটি আসনই থাকছে।’
গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটি গেজেট প্রকাশ করে বাগেরহাটের চারটি আসনের একটি কমিয়ে তিনটি করার এবং বিলুপ্ত বাগেরহাট-৪ আসনের এলাকা গাজীপুরের সঙ্গে যুক্ত করে গাজীপুর-৬ আসন সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে বাগেরহাটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করে। পরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাব, বাগেরহাট জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, বাগেরহাট জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং ২০১৮ সালে বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানাসহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন হাইকোর্টে রিট করে।
রিটে বলা হয়, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনই ছিল। নির্বাচন কমিশনের ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনের পরিপন্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল।
আপিল বিভাগের এ রায়ের মধ্য দিয়ে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল হলো।