মিয়া গোলাম পরওয়ার

তারা নাকি এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে দেবে না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দল নির্বাচনের আগেই মনে করছে তারা ক্ষমতায় চলে গেছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে গিয়ে শুনছি তারা নাকি এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে দেবে না, ভোট দিতে বাধা দেবে, ব্যালট বাইরে এনে সিল মেরে নেবে।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মাদারতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সজীমান্ত রায়ের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং আহত শিমুল মন্ডল, তনয় মন্ডল ও সাগর মন্ডলের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণের একটি ধাপে আমরা উপনীত হচ্ছি। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়। নির্বাচন কমিশন, সরকার, সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ সব স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪-এর আগস্টেই আমরা সেই পুরনো বাংলাদেশকে বিদায় দিয়েছি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এখন জনগণকে সচেতন করছি। আমরা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে, সবার জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে, ভোটগ্রহণের সঙ্গে জড়িত সবাইকে পক্ষপাতহীন থাকতে হবে।

এ আগে সকাল ৮টায় ফুলতলা উপজেলার শিরোমণি ডাকাতিয়া পশ্চিনপাড়ায় ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতে ইসলামী দেশের সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের কাছে সবচেয়ে আস্থার দলে পরিণত হয়েছে। ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায় আজ ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু কেউ কেউ এই ঐক্য মেনে নিতে পারছে না। কোথাও কোথাও হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকি প্রমাণ করে, কর্র্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেও কেউ কেউ আবার সেই পুরনো ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

এদিন বেলা ১১টায় আসাননগরে উঠান বৈঠক, দুপুরে সেনপাড়া মহিলা সমাবেশ, বিকেল ৪টায় সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটিতে অফিস উদ্বোধন এবং সন্ধ্যা ৬টায় গুটুদিয়ার কোমলপুরে বিশাল ভোটার সমাবেশে যোগ দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রতিটি কর্মসূচিতেই তিনি জোর দিয়েছেন নিরপেক্ষ নির্বাচন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।