আসিফ নজরুলের আশা

দুটি মৌলিক সংস্কার সুরক্ষিত থাকবে

সরকার পরিবর্তনের পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বহাল থাকবে এবং এ দুটি মৌলিক সংস্কার ভবিষ্যতে ‘সুরক্ষিত ও অপরিবর্তনীয়’ থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আনা সংস্কারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রা অবশ্যই এসব অর্জনের ভিত্তিতেই নির্মিত হতে হবে।

গতকাল বুধবার ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যখন সংস্কারের কথা বলি, তখন একটি সাধারণ হতাশা দেখা দেয় পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার এলে কী হবে? এসব সংস্কার কি হারিয়ে যাবে? আমি নিশ্চিত করে বলতে চাই দুটি বিষয় কখনো হারাবে না। এর একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা।’

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত, এটি বাতিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের আইনটির অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে, কোনো সরকার এসব সংস্কার প্রত্যাহারের চিন্তাও করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে, আর আমাদের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকবে। এ দুটো একসঙ্গে মানবাধিকার অগ্রগতির বড় নিশ্চয়তা প্রদান করে।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের কিছু উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা ছিল যেমন মানবাধিকার অধ্যাদেশ এবং গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এগুলোর বিরোধী কিছু গোষ্ঠী অবশ্যই থাকবে, কারণ এগুলো প্রকৃত জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু আমরা যখন আবার নাগরিক সমাজে ফিরে যাব, আমরা এসব আইন রক্ষার জন্য রাস্তায় নামব।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউএনডিপির সিনিয়র কর্মকর্তা স্টেফান লিলার, বাংলাদেশে সুইস দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগবিষয়ক প্রধান আলবের্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ।