বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে। ২৪ দলের প্রতিযোগিতায় লাল–সবুজের তরুণরা শেষ পর্যন্ত ১৭তম স্থান অর্জন করেছে এবং জিতেছে চ্যালেঞ্জার ট্রফি।
ভারতে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন ফরোয়ার্ড আমিরুল ইসলাম। পাঁচটি হ্যাটট্রিকসহ মোট ১৮ গোল করে তিনি পুরো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
চ্যালেঞ্জার ট্রফি জয়ের পর বিকেলে দেশে ফেরেন আমিরুল–রা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি দেশের মানুষের সমর্থন ও দোয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আমিরুল বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম, তা ছেলেরা পূরণ করে এসেছে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। শেষ ম্যাচে লাল কার্ডের কারণে কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছি, কিন্তু তবু দলীয় পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।”
পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করায় অনূর্ধ্ব–২১ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে লড়াই করেও হারের পর দল ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ১৭তম স্থানসহ চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে দেশে ফেরে।
নিজেদের লক্ষ্য প্রসঙ্গে আমিরুল যোগ করেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল টুর্নামেন্টের শেষদিকে পৌঁছানো। ভালো খেলা উপহার দেওয়ার জন্যই সবাই মাঠে সর্বোচ্চটা দিয়েছে।”
ঘরোয়া লিগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার বলেন, “যদি নিয়মিত প্রতিযোগিতা থাকে, তাহলে আমাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের লিগগুলো নিয়মিত হলে বিদেশি শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা এখানে আসবে। তাদের সঙ্গে খেলতে পারলে নতুন অনেক কিছু শিখতে পারব। এতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানও বাড়বে।”
শেষে হকির উন্নয়ন নিয়ে অনুরোধ জানিয়ে আমিরুল বলেন, “আমাদের কিছু চাওয়া আছে। লিগটা যেন নিয়মিত আয়োজন করা হয়। জুনিয়র বিশ্বকাপ সামনে, তাই আজকের সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের আরও সহযোগিতা করলে আমরা খেলায় আরও মনোযোগী হতে পারব।”