প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ডের রাজনীতি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষের জেরে ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে থাইল্যান্ডের আইনসভা ভেঙে দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক রাজ আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। এই আদেশের ফলে দেশটিতে আগামী ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আদেশের লিখিত অনুলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে বলা হয়, তার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে সীমান্তে সংঘাতসহ বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছিল। তাই সমীচীন সমাধান হলো পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া। এতে রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি পথ তৈরি হলো।
গত দুই বছরে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজনেস টাইকুন আনুতিন। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি জানুয়ারির শেষ নাগাদ পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ে তিনি নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। গত মাসে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন এবং তার দল ভূমজাইথাই পার্টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই দুর্যোগে অন্তত ১৭৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এদিকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই আসে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন অনুমোদিত ডিক্রিতে আনুতিন লিখেছেন, সরকার দেশ জুড়ে জরুরি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রশাসনিক সব পন্থাই গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেশ পরিচালনায় স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রশাসন ধারাবাহিক, কার্যকর ও স্থিতিশীলভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার আগে, প্রধানমন্ত্রীর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে আইনসভার বৃহত্তম দল, তরুণ-প্রগতিশীল পিপলস পার্টি।