মোমিনের প্রধান শত্রু শয়তান। কোরআনের অনেক স্থানে আল্লাহতায়ালা শয়তান সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন। কেননা শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। মানুষের এই চিরশত্রু মানুষের বাসস্থানে প্রবেশ করে অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাই মুসলমানদের জন্য এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। শয়তানের প্রভাব থেকে সুরক্ষার কিছু আমল উল্লেখ করা হলো।
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ : হজরত আবু মাসউদ (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, কেউ যদি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করে, সেটা তার জন্য (বিপদাপদ ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে) যথেষ্ট। (সহিহ্ বুখারি)
পানাহারের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া : নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান হতাশ হয়ে (তার সঙ্গীদের) বলে, তোমাদের (এখানে) রাত যাপনও নেই, খাওয়াও নেই। আর যখন সে প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলে, তোমরা থাকার স্থান পেয়ে গেলে। আর যখন সে খবরের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন সে (শয়তান) বলে, তোমাদের নিশি যাপন ও রাতে খাওয়ার আয়োজন হলো।’ (সহিহ্ মুসলিম)
শয়তানের প্রিয় বস্তু ঘরে না রাখা : শয়তানের প্রিয় জিনিস থেকে ঘর মুক্ত রাখতে পারলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে শয়তানের প্রিয় বস্তুর ব্যাপারে এসেছে, ‘হে মুমিনরা, মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্যনির্ধারক তীর ঘৃণিত শয়তানি কাজ, তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হতে পারো।’ (সুরা মায়েদা ৯০)
ঘরে কোনো পরিত্যক্ত বিছানা না রাখা : যে বিছানায় দীর্ঘদিন ধরে কেউ থাকে না, অথচ তা বিছিয়ে রাখা হয়, এমন বিছানায় শয়তান আশ্রয় নেয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘একটি বিছানা ব্যক্তির জন্য, একটি তার পরিবারের জন্য, একটি অতিথির জন্য, আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য।’ (সুনানে নাসায়ি)
বাথরুমে প্রবেশের সময় দোয়া পড়া : টয়লেট ও গোসলখানা মানুষের জন্য স্পর্শকাতর স্থান। এগুলোর ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণত পায়খানার স্থানে শয়তান এসে থাকে। সুতরাং তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশ করলে যেন বলে, ‘আল্লাহুমা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়িস।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর কাছে শয়তান ও যাবতীয় নোংরাবিষয় থেকে আশ্রয় চাই। (আবু দাউদ)
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসা