ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এ মাসেই আমরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জয় পেয়েছিলাম। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে এই অফুরন্ত অবসরে কেমন কাটছে তোমাদের দিন। বিজয়ের মাসে এই অবসরে পড়তে পারো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত বই। আজ তেমন তিনটি বইয়ের কথা তোমাদের বলব।
একাত্তরের দিনগুলি
প্রথমেই যে বইটির কথা বলতে হয়, সেটি হলো শহীদ জননী জাহানারা ইমামের রচিত একাত্তরের দিনগুলি বইটির কথা। তার দুই সন্তান, রুমী ও জামী। বড় ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ছিলেন গেরিলা দল ক্রাক প্লাটুনের সদস্য। ঢাকাবাসী হিসেবে এ শহরের অলিগলি ছিল নখদর্পণে। ট্রেনিং নিয়ে তারা ঢাকায় ঢুকে এ শহরকে শত্রুমুক্ত করার মিশন নেন। তারা হঠাৎ আক্রমণ করেই মিলিয়ে যেতেন মানুষের ভিড়ে। একাত্তরে ট্রেনিং নিয়ে রুমী যখন ঢাকায় ফিরে আসেন তখন মা জাহানারা ইমামও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। সেসব রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। বইটি পড়লে ১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ ঢাকার একটি চিত্র পাবে তোমরা।
একাত্তরের ডায়েরী
একাত্তরের ডায়েরী বইটি লিখেছেন কবি সুফিয়া কামাল। একাত্তরের ডায়েরী শুরু হয়েছে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর থেকে। পূর্ব পাকিস্তানে এক ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস হয়। তিনি ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে দক্ষিণবঙ্গে গিয়েছিলেন। সে সময়ের কথা যেমন আছে, তেমনি আছে ১৯৭১-এ কীভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেলাম। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তার কিছু উঠে এসেছে এই বইয়ে। তবে তিনি শুধু চারপাশের ভয়াবহতার কথাই লেখেননি। লিখেছেন আশার কথাও। বইটি থেকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে দেখতে পারবে তোমরা।
একাত্তরের চিঠি
শেষ যে বইটির কথা বলব সেটি কোনো একজন ব্যক্তির লিখিত বই নয়, বরং অনেকের লেখা চিঠির একটি সংকলন। ১৯৭১ সালে লেখা ৮৬টি চিঠির একটি সংকলন এই বই। চিঠিগুলোতে ফুটে উঠেছে একটি জাতির দেশপ্রেম, ত্যাগ ও একটি দেশের জন্মের অনিবার্যতা। এই চিঠিগুলোতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়াবহতার চিত্র যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি লেখকের অজান্তেই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পনাও প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে তাদের দায়িত্ববোধ। মুক্তিযোদ্ধারা পরিবার ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হলেও দায়িত্ববোধ তাদের ছাড়েনি। একটি স্বাধীন দেশের জন্য যে দুর্দমনীয় আকুতি ফুটে উঠেছে চিঠিগুলোতে তাতে সন্দেহ থাকে না পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর মারণাস্ত্রও এই জাতিকে দমিয়ে রাখতে পারত না। বইটি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে একাত্তরের পরের প্রজন্মকে।