নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে আবারও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মারধরের শিকার হয়েছেন এক বিচারপ্রার্থী। গতকাল রবিবার এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার রাসেল হোসেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার রাজনগর এলাকার ওয়াব আলী ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাসেল ইংরেজিতে আইনজীবীদের গালাগাল দিচ্ছে, এমন অভিযোগে জেলা আইনজীবীর সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবিরের নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী এসে তাকে প্রথম দফায় মারধর করেন। এরপর আবারও একজন তাকে বেদম মারধর করেন। আইনজীবীরা জানান, ওই ব্যক্তির মাথায় সমস্যা আছে।
রাসেল হোসেন জানান, তিনি একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী। তার স্ত্রী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি একটি মামলা করেছিলেন, ওই মামলার খবর পেয়ে তার স্ত্রী তাকে আসামি করে পাল্টা নির্যাতনের মামলা করেছেন। কিন্তু পুলিশ রাসেলের মামলার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিয়ে তার স্ত্রীর মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, নারীরা নির্যাতনের ভুয়া মামলা দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কিন্তু পুরুষ নির্যাতিত হলে মামলার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এমন আইনের পরিবর্তন দরকার। নারী পুরুষ যদি সমান অধিকার হয়, সমান অধিকার চাইবে, তো আইনের বেলায় কেন সমান হবে না।
রাসেল আরও বলেন, তার পক্ষের আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট হিরু এবং তার স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট মাসুম। আজকে তার কাছে টাকা চাওয়ায় তিনি টাকা দিতে অসম্মতি জানালে তাকে অ্যাডভোকেট মাসুমের নেতৃত্বে অন্যান্য আইনজীবীরা মারধর করেন।
তিনি বলেন, আমি একজন প্রবাসী। আমি এই দেশের নাগরিক। আমাকে আজকে এই আইনের ঘরে মারধর করা হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবিরের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিচারপ্রার্থী ওই রাসেল হোসেনকে মারধরের সময়, নারায়ণগঞ্জ আদালতের এপিপি ও বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুম, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবিরসহ বিএনপিপন্থি অনেক আইনজীবীকে দেখা গেছে।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে শিশুপুত্রের সামনে ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া নামে এক বিচারপ্রার্থীকে বেদম মারধর করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের অনুগামী কয়েকজন আইনজীবী ও তার মুহুরী। ইরফান মিয়াকে বাঁচাতে এসে তার পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হন।