আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে গণঅভ্যুত্থানের নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে খুন করা হচ্ছে এমন মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে বানচাল করা এবং গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রতিচ্ছবি ছিলেন, যারা নায়ক ছিলেন, নেতা ছিলেন এবং যারা অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় এনসিপির অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা পুরো জাতি দেখেছে। ওসমান হাদিকে যারা হত্যাচেষ্টায় লিপ্ত ছিল, তাদের কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমরা বলতে চাই, অতি দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা এবং আয়োজনের সঙ্গে যারা জড়িত, প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের ভেতরে বাইরে যারা নীলনকশা করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আমরা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে গণতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চাই।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের এই দিনে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধপন্থি লেখক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার যারা স্বাধীনতাকামী ব্যক্তি ছিলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। বিজয়ের প্রাক্কালে বাংলাদেশের যারা চিন্তাশীল মানুষ ছিলেন, স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন তাদের হত্যা করা হয়, যাতে বাংলাদেশ জাতি হিসেবে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াতে না পারে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করার জন্য লড়াই সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে। ২৪-এর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেই লড়াইয়ে আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
নাহিদ বলেন, আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির সূর্যসন্তানদের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করতে চাই। ৪৭, ৭১ এবং ২৪ এর আমাদের যে ঐতিহাসিক লড়াই ছিল, সেই লড়াইকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটা আত্ম-মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।