ওরা ভয় পাইয়ে দিতে চায় : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে নির্বাচনের তফসিল যখন ঘোষণা করা হলো তখনই হত্যা করার চেষ্টা করা হলো। হাদি (শরিফ ওসমান বিন হাদি)...একজন সৈনিক, যে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। একটা ভয় আবার শুরু করতে চেয়েছে, যে ভয় ১৫ বছর আওয়ামী লীগ দেখিয়েছে। ভয় দেখিয়ে শাসন করার চেষ্টা করেছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে, আবার সেই ভয় দেখিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের সৈনিকদের স্তব্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলে, ভয়ে বিএনপি কখনো দমে যায় না। আমরা দমে যাব না। আমরা তারেক রহমান সাহেবের যে স্বপ্ন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে স্বপ্ন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার স্বপ্ন সত্যিকার অর্থেই একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবার সেই স্বপ্নকে অবশ্যই বাস্তবায়িত করব ইনশাল্লাহ।’

গতকাল রবিবার বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চতুর্দিকে ষড়যন্ত্র হবে, চক্রান্ত হবে। তার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে বিএনপি। সে জয়লাভ করবেই ইনশাল্লাহ। সে বিশ্বাস আমাদের আছে। বিএনপি একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি একটা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমি আশাবাদী এই কারণে যে, আজকে যতই চক্রান্ত তা নস্যাৎ করে বাংলাদেশের মানুষ সামনে এগিয়ে যাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে বিএনপি। ১৫-১৬ বছর লড়াই করেছি। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, ইলিয়াস আলীসহ ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। তারপরে আমাদের কিন্তু পরাজিত করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী দিবসটি আমাদের কাছে খুব ভারাক্রান্ত। কারণ ঠিক দুই দিন আগে স্বাধীনতার পাওয়ার ১৬ ডিসেম্বরের দিনটির আগে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটা নীলনকশার মাধ্যমে একটি জাতিকে সম্পূর্ণ মেধাশূন্য করে দেওয়ার একটি চক্রান্ত ছিল সেটা। যারা পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সেদিন যোগসাজশ করেছিল তাদের প্রতিনিধি হয়ে এসে বাড়িতে বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারগুলোতে অথবা তাদের বাড়ি থেকে যারা তুলে নিয়েছিল, তারা কিন্তু বাঙালি সন্তান ছিল। আজকে আমরা খুব ভালো করে জানি, তারা কারা ছিলেন? আমাদের ইতিহাস প্রমাণ করে তখনকার সেই রাজনৈতিক শক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তারাই সেদিন আমাদের সেই সূর্যসন্তানদের তুলে নিয়েছিল। এ বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো কারণ নেই।’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকালে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটা হবে দুটো শক্তির মধ্যে নির্বাচন। একটা শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। এই শক্তি হচ্ছে উদার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, এই শক্তি হচ্ছে সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার শক্তি। আর আরেকটি শক্তি হচ্ছে, সেই পেছনে পড়া, যারা আমাদের সবসময় বিভ্রান্ত করতে ধর্মের কথা বলে। আমরা একাত্তর সালকে ভুলতে পারি না। আমরা কি সেই শক্তির দিকে থাকব, নাকি আমরা যারা সেটাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল তাদের দিকে থাকব?’

তিনি বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে নির্বাচনে ধানের শীষের মার্কাকে বেছে নেওয়া। আজকে যে পোলারাইজেশন সামনে এসেছে অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ কোনটা বেছে নেবে? সে কি স্বাধীনতাকে বেছে নেবে, সার্বভৌমত্বকে বেছে নেবে, গণতন্ত্রকে বেছে নেবে? আমাদের স্বাধীনতাবিরোধীরা যেটা করেছে, সেই শক্তিকে বেছে নেবে? একাত্তর সালেও কিন্তু সেই ধর্মের নামেই বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।’

ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল জয়নুল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।