প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে কিয়েভকে সহায়তা করতে সম্প্রতি রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে রাশিয়ার ফ্রিজড অবস্থায় থাকা ২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল ইইউ। তবে সেই অর্থে হাত না দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বার্লিনে ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টাস্ক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে পুনর্গঠন-সংক্রান্ত ঋণ বাবদ ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফ্রিজড অবস্থায় থাকা অর্থ প্রদানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাতে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, বর্তমানে রাশিয়ার অর্থ ব্যাংকগুলোতে যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থাতেই যেন থাকে। তিনি আরও জানান, এর কারণ হিসেবে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা বলেছেন, যদি এই অর্থে হাত দেওয়া হয়, তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসানের ব্যাপারটি ফের ঝুলে যাবে।
২০২২ সালে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরুর করার পর রাশিয়ার প্রতি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদ ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইইউ। এই ফ্রিজ ডলার ও সম্পদের সম্মিলিত পরিমাণ ২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার। সম্প্রতি ইইউর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন প্রস্তাব দেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির পর এই অর্থ-সম্পদ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে পুনর্গঠন ও জাতীয় বাজেটের জন্য কিয়েভকে ঋণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। গত ১২ ডিসেম্বর ব্রাসেলসে ইইউর বৈঠকে এই প্রস্তাব পাস হয়। আজ বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ব্রাসেলসের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল ইইউর। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার পর এই বৈঠক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার আক্রমণকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখায় ইইউ ইউক্রেনকে অর্থায়ন এবং লড়াইয়ে সচল রাখতে চায়।