উত্তর ইতালির একটি ন্যাশনাল পার্কে হাজার হাজার ডাইনোসরের পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। ২১০ মিলিয়ন বছর পুরনো পদচিহ্নগুলোর মধ্যে কিছু ৪০ সেন্টিমিটার বা ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত ব্যাসার্ধের। এগুলো সমান্তরাল লাইনে অবস্থান করছে এবং অনেকগুলোতেই স্পষ্টভাবে আঙুল ও নখের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রোসাউরপডস প্রজাতির ছিল। এরা ছিল শাকাহারি। অর্থাৎ সবজি খেয়ে জীবন ধারণ করত। এদের ঘাড় খুব দীর্ঘ হতো, যাতে তারা উঁচু গাছের পাতা খেতে পারত। দেহের তুলনায় মাথা ছোট এবং তীক্ষè নখ ছিল। মিলানে বসবাসকারী প্যালিওনটোলজিস্ট ক্রিস্টিয়ানো ডাল সাসো বলেছেন, এটি অবিশ্বাস্য। আমি কখনো ভাবতাম না যে আমি এমন এক বিস্ময়কর আবিষ্কার আমার এলাকার মধ্যেই খুঁজে পাব। গত সেপ্টেম্বরে একজন ফটোগ্রাফার স্টেলভিও ন্যাশনাল পার্কের একটি খাঁড়া পাহাড় প্রাচীরে শত শত মিটার দীর্ঘ পদচিহ্ন দেখেন। পার্কটির অবস্থান মিলান থেকে উত্তরে।
প্রায় ২৫০ থেকে ২০১ মিলিয়ন বছর আগে ত্রিয়াসিক যুগে এই প্রাচীরটি একটি জোয়ারভিত্তিক সমতল ছিল, যা পরে আলপাইন পর্বতমালার অংশ হয়ে যায়। ডাল সাসো বলেন, এই জায়গাটি ডাইনোসরে পূর্ণ ছিল; এটি একটি বিশাল বৈজ্ঞানিক সম্পদ। হরিণদের মতো ঝাঁক এই এলাকায় একসঙ্গে চলাচল করত। তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও জটিল আচরণের চিহ্ন আছে, যেমন প্রাণীদের একটি বৃত্তে জমায়েত হওয়া, সম্ভবত আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে। প্রোসাউরপডস, যাদের দৈর্ঘ্য ১০ মিটার (৩৩ ফুট) পর্যন্ত হতে পারত, সাধারণত দুই পায়ে হেঁটে চলত, তবে কিছু ক্ষেত্রে পদচিহ্নের সামনে হাতের ছাপ পাওয়া গেছে, যা নির্দেশ করে তারা মাঝে মাঝে বিশ্রামের সময় সামনে হাতটি মাটিতে রাখত।’
এই স্থানের আবিষ্কারক ফটোগ্রাফার এলিও ডেল্লা ফেরেরা বলেন, আমি আশা করি, এই আবিষ্কার আমাদের সবার মধ্যে চিন্তাভাবনা জাগাবে, দেখাবে আমরা আমাদের বাসস্থান, আমাদের গ্রহ সম্পর্কে কতটা কম জানি। ইতালিয়ান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এলাকাটি প্রত্যন্ত। সাধারণ পথে সেখানে পৌঁছানো যায় না। তাই ড্রোন এবং দূর থেকে সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। স্টেলভিও ন্যাশনাল পার্কটি ফ্রায়েল উপত্যকায় অবস্থিত, ইতালির সুইজারল্যান্ড সীমান্তের কাছে, যেখানে আগামী বছরে শীতকালীন অলিম্পিক হবে।