বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া বসিয়েছে ভারত। গত মঙ্গলবার ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এ তথ্য জানান দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে, যা মোট সীমান্তের ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এখনো ৮৫৬ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার বা ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ সীমান্তে বেড়া বসানো হয়নি। লোকসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়ের লিখিত উত্তরে জানানো হয়, মোট ২ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে, ২ হাজার ১৩৫ দশমিক ১৩৬ কিলোমিটারে বেড়া বসানো শেষ হয়েছে, যা মোট সীমান্তের ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাকি ১৫৪ দশমিক ৫২৪ কিলোমিটার বা ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ সীমান্ত এখনো বেড়ার বাইরে।
এ ছাড়া ভারত-মিয়ানমার সীমান্তেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ দশমিক ২১৪ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য জগদীশ চন্দ্র বার্মা বসুনিয়া ও শর্মিলা সরকারের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন। তারা সীমান্তের কোন অংশে এখনো বেড়া নির্মাণ করা হয়নি, তার দৈর্ঘ্য ও শতকরা হিসাব জানতে চেয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ভারতের মোট স্থল সীমান্তের দৈর্ঘ্য ১৫ হাজার ১০৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার ও দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য ৭ হাজার ৫১৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
ভারত স্থলপথে সাতটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। পশ্চিমে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট হয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখাও (লাইন অব কন্ট্রোল) অন্তর্ভুক্ত। উত্তর ও উত্তর-পূর্বে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ জুড়ে চীনের সঙ্গে ভারতের সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) দ্বারা চিহ্নিত। এ ছাড়া উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম হয়ে নেপালের সঙ্গে ভারতের একটি উন্মুক্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে মানুষের অবাধ চলাচল অনুমোদিত। পূর্বদিকে ভারত ভুটান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। স্থল সীমান্তের পাশাপাশি ভারতের সামুদ্রিক সীমান্ত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পকপ্রণালি দ্বারা ও আরব সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মালদ্বীপের সঙ্গেও রয়েছে।