বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতের নিরাপত্তায় সীমানা প্রচীর নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের বাধায় আদালতের বিচার কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকায় বিচার প্রার্থী ও আইনজীবীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
জানা গেছে, জেএল ৩১ নম্বর আমতলী মৌজার ৩১৮,৩১৯ ও ৩২০নং দাগে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালত অবস্থিত। উল্লেখিত তিনটি দাগে মোট ১.৪৬ একর জমি ওই চৌকি আদালতের ভোগ দখলে রয়েছে। হাইকোর্টর নির্দেশে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতের নিরাপত্তায় চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের পূর্ব দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাতে বাধা দেয়। তখন বিচারক ইফতি হাসান ইমরান নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানার জন্য এজলাস ছেড়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলতে যান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি আইনজীবী অ্যাড. মাহবুবুল আলম বলেন, হাইকোর্টর নির্দেশে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতের নিরাপত্তায় চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে বিচার প্রার্থী ও আইজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিচার প্রার্থী আ. রহমান, সোলায়মান ও পান্নু মিয়া বলেন, সকালে মামলায় হাজিরা দিতে বাড়ি থেকে আমতলী কোর্টে এসেছি। হঠাৎ আদালতের কার্যক্রম দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকায় এখনও বসে রয়েছি।
আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. আবু বকর জানান, আমতলী উপজেলা সিনিয়র জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভোগদখলীয় জমিতেই আমরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতেছি। নির্মাণে বাধা দেওয়ার কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।