আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও ১১ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আগামী ১৯ জানুয়ারি এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেয় আদালত। এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের গুমের কোনো মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সাক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
গতকাল এ মামলায় কারাগারে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন, ডিজিএফআই’র সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে পর্যায়ক্রমে তাদের নাম উল্লেখ করে তারা দোষ স্বীকার করেন কি না, জানতে চান। জবাবে তিনজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের আরজি জানান।
এ মামলায় শেখ হাসিনা, তার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১০ আসামি এখনো পলাতক। পলাতক সেনা কর্মকর্তারা হলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। এ ছাড়া পলাতক আর তিন আসামি হলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
আদালতে শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। কারাগারে থাকা তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও মাহিন এম রহমান।
অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। আমরা শুনানির জন্য দুই মাস সময় চেয়েছিলাম। ট্রাইব্যুনাল প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় দিয়ে ১৯ জানুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে।’