আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকালে বিভিন্ন অগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমসংক্রান্ত জিনিস উদ্ধার করা হয়। সবশেষ গতকাল শনিবার ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল) ৭৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ -২’ অভিযানে একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর সর্বনিম্ন এক দিনে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৭৬ জনকে। জানা গেছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়াও অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট দমন, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত শনিবার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে এ অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ওইদিন রাত থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সেনাবাহিনী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামের বিশেষ অভিযান শুরু করে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ১৩ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। এর মধ্যে ১৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৪৭৬ জনকে, ১৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৫৬৭ জনকে, ১৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৮২৩ জনকে, ১৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ১ হাজার ৩৯৮ জনকে, ১৮ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৯৬৮ জনকে, ১৯ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৯৩৪ জনকে, ২০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ৭৮৩ জনকে। এর বাইরেও নিয়মিত অভিযানে সারা দেশ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজারের অধিক বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়।
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৭৮৩ : গত ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এ ৭৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় সারা দেশ থেকে ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পুলিশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০ হাজার ৩৩৩টি মোটরসাইকেল ও ১৭ হাজার ৯২৩টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ৩৫৬টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়।