চেলসির বিপক্ষে ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস পার্কে ২-২ গোলে ড্র করলেও রেফারির এক সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের কোচ এডি হাও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তার দল একটি ‘নিশ্চিত’ পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে নিউক্যাসলের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের ভেতরে চেলসির ডিফেন্ডার ট্রেভো চ্যালোবার ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরা এবং টাচলাইনে থাকা হাও পেনাল্টির দাবি তোলেন। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পরও মাঠের রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।
সে সময় ম্যাচে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে শোনা যায় দুয়োধ্বনি। ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে লিগের ম্যাচ সেন্টার জানায়, গর্ডনের ওপর চ্যালোবার সংস্পর্শকে পাশ থেকে পাশের ‘শিল্ডিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং বল খেলাযোগ্য দূরত্বের মধ্যেই ছিল। সে কারণেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
এডি হাও বলেন, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়টি অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিল। মাঠের অন্য যেকোনো জায়গায় হলে এটি নিশ্চিত ফ্রি–কিক হতো। তাই এই সিদ্ধান্তে তিনি খুবই হতাশ। সাবেক নিউক্যাসল গোলরক্ষক শে গিভেনও কোচের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তার মতে, এটি কেবল কাঁধে কাঁধ লাগার মতো নয়, বরং স্পষ্ট ফাউল। অন্তত রেফারির নিজে মনিটরে গিয়ে আবার দেখে নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান ব্যাখ্যা দেন যে- ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি কেবল তখনই মাঠের রেফারিকে মনিটরে পাঠাতে পারেন, যখন ‘স্পষ্ট ও পরিষ্কার ভুল’ দেখা যায়। এই ঘটনায় সেই মাত্রার ভুল প্রমাণিত না হওয়ায় মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঠে যদি শুরুতেই পেনাল্টি দেওয়া হতো, তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও সম্ভবত সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখত।