নির্বাচনকালীন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পুতিনের

প্রায় চার বছর ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করলেও কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও নাকচ করে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তার দাবি জেলেনস্কি অনির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখনো শান্তিচুক্তিতে রাজি না হওয়া পুতিন বলেছেন, জেলেনস্কি যদি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন, তাহলে নির্বাচন উপলক্ষে দেশটিতে সাময়িকভাবে হলেও হামলা বন্ধ রাখবে রুশ বাহিনী। গত শনিবার রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যদি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়, তাহলে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটের দিন ইউক্রেনের অভ্যন্তরে হামলা করা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত আছে রুশ বাহিনী। এমনকি সীমান্তবর্তী সীমান্ত পেরিয়ে যেসব ইউক্রেনীয় রাশিয়ার ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও ভোট দিতে ইউক্রেনে যেতে পারবেন। রুশ সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে কোনো বাধা দেবে না। তিনি আরও বলেন, তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইউক্রেন যদি অস্ত্র-সেনা মজুদ করা শুরু করে তাহলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে। ইউক্রেনে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালের মে মাসে। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০ মে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল ৫ বছর। সেই হিসেবে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির বৈধ মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের পর কয়েকবার নির্বাচনের দাবি উঠেছে ইউক্রেনে; কিন্তু ‘দেশে যুদ্ধ চলছে’ এই অজুহাতে প্রতিবারই সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলেনস্কি এবং দফায় দফায় সামরিক আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে এখনো ক্ষমতায় আছেন তিনি।

২০২৪ সালের মে মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মস্কো বলে আসছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জেলেনস্কি বা তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সংলাপে বসতে ইচ্ছুক নন রুশ কর্মকর্তারা। পুতিন বলেছিলেন, জেলেনস্কি যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন তাহলে নির্বাচনে বিজয়ী নতুন সরকারের সঙ্গে সংলাপে আপত্তি নেই মস্কোর। এমনকি জেলেনস্কি যদি নিজে যদি ফের নির্বাচিত হন, তাহলেও। কিন্তু ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং জেলেনস্কি নিজে মস্কোর এই আহ্বানে কর্ণপাত করেননি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সর্বশেষ দফার আলোচনার অংশ হিসেবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরপর মিয়ামিতে রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছিল। বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে।