হাদি হত্যা

দুদিনের কর্মসূচি ইনকিলাব মঞ্চের কবির ফের রিমান্ডে

শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে ও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে ‘শহীদি শপথ’ পাঠ করে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ শপথ পাঠ করান ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

এ সময় ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা উপস্থিত ছিলেন।

শপথপাঠ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে নিয়ে দেয়াললিখন, তার সংগ্রাম ও লড়াইয়ের কথা নানা মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন। ২৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচি পরে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান আবদুল্লাহ আল জাবের।

শপথবাক্যে বলা হয়, শহিদ ওসমান হাদির রক্তের শপথ, এই রক্ত বৃথা যেতে দেব না। যে হাত তাকে হত্যা করেছে, যে শক্তি এই হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, যে আধিপত্য এই দেশকে দাস বানাতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমরা শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাব। এই বাংলার জমিনে যে আধিপত্যবাদ জেঁকে বসেছে, তা সমূলে উৎপাটন করব। ভয়, লোভ আর আপসের রাজনীতি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো ভয় ও লোভ আমাদের এই লড়াই থেকে পিছপা হতে দেব না।

শপথে আরও বলা হয়, ‘আমরা শপথ করছি, শহিদ ওসমান হাদির হত্যার দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। লড়াইয়ে থাকব, পিছু হটব না। এক চুলও নড়ব না। আমরা শপথ করছি, শহিদ ওসমান হাদির স্বপ্নের ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌম ও মর্যাদাশীল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ব। যেখানে শাসক জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। বিচার নিশ্চিত করবে। খুন, গুম, হত্যা বন্ধ করবে।

শহীদি শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদ ওসমান হাদির বড় ভাই শরীফ উমর বিন হাদি বলেন, ‘হাদি হত্যার ছয় দিন পার হলেও সরকার এখনো জাতির সামনে কোনো দৃশ্যমান সমাধান উপস্থাপন করতে পারেনি। জীবিত ওসমান হাদির চেয়েও শহিদ ওসমান হাদি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসছে। তার হত্যার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। যদি কেউ মনে করে, দুই মাস পর ক্ষমতা ছেড়ে দিলেই দায়মুক্তি মিলবে। তবে মনে রাখতে হবে, অপরাধীদের এক দিন অবশ্যই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী কবিরকে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ সাত দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট  মো. সেফাতুল্লাহ উল্লাহ পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে কবিরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ফয়সালের সঙ্গে এ আসামি একাধিকবার হাদির অফিসে যান। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক কবির। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আরও তথ্য বাকি আছে। কিছু তথ্য এড়িয়ে যায়।

 বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। এরপর সিঙ্গাপুরে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ দেশে আসার পর গত শনিবার জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।